গাইবান্ধা: হামের পর এবার জলাতঙ্ক। জলাতঙ্কে মারা যাচ্ছে মানুষ। টিকা সংকট দেখা দিয়েছে এরই মধ্যে। একদিকে জলাতঙ্কের টিকা নেই, আরেকদিকে শিশুদের হামের টিকা নিতে গেলে দিয়ে দেয়া হচ্ছে জলাতঙ্কের টিকা! এই কী অবস্থা শুরু হয়েছে দেশে।

ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্কতা উপেক্ষা করে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত স্বাস্থ্য খাতের ৫ বছর মেয়াদি অপারেশনাল প্ল্যান বা ওপি স্থগিত করার পর একের পর এক টিকা সংকটে দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা করুণ হয়ে পড়েছে।

কুকুরের কামড় খেয়ে হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন আহত মানুষ, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু আতঙ্ক তো না, মৃত্যু ছাড়া গতি নাই।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫, এবং মারা গিয়েছেন ৫ জন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি বেওয়ারিস পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত এক সপ্তাহে আহতদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে জলাতঙ্ক ভীতি দেখা দিয়েছে।

জলাতঙ্কে মৃতরা হলেন—কঞ্চিবাড়ী গ্রামের মোছা. সুলতানা বেগম (৫০), বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের নন্দ রানী (৫৫), কঞ্চিবাড়ী গ্রামের ফুলু মিয়া (৫৫), আফরোজা বেগম (৫০) এবং পাশের ছাপরহাটী ইউনিয়নের পূর্ব ছাপরহাটী এলাকার রতনেশ্বর কুমার (৫৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর কঞ্চিবাড়ী ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে অনেকজন ব্যক্তিকে আচমকা আক্রমণ করে।

কিন্তু আহতরা গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন পাননি। টিকা না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে সংগ্রহ করেন। তবে সঠিক সময়ে (২৪ ঘণ্টার মধ্যে) ভ্যাকসিন নিতে না পারায় মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনকহারে বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বাজার, রাস্তা, আবাসিক এলাকা কোথাও শান্তি নেই। ঘুরে বেড়ানো কুকুরের কারণে প্রায়ই মানুষ আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান সুলতানা বেগম। এর আগে আমার ইউনিয়নে জলাতঙ্কে তিনজন মারা গেছেন।

ছাপরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কনক গোস্বামী বলেন, ৮ মে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে রতনেশ্বর কুমারের মৃত্যু হয়। তিনি ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। তবে কুকুরে কামড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে পারেননি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, গত তিন বছরে উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের টিকা বরাদ্দ আসেনি। তবে পোষা কুকুরের জন্য সীমিত পরিমাণ ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে।

ভ্যাকসিন ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছেনা। ভ্যাকসিন না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়নি তাদের।

সরকারি হাসপাতালে যদি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকত, এই মৃত্যুগুলো এড়ানো যেত। দ্রুত চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা না হলে হতে পারে আরও প্রাণহানি।

আক্রান্তদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে ছুটতেই কেটে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বাইরে থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করলেও ততক্ষণে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে র‌্যাবিস ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে।

বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে পড়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *