ঢাকা: নির্বিঘ্নে পূজা– এই একটা শব্দ শুনতে শুনতে কান পচে গেছে। নির্বিঘ্নে পুজো করতে পারবেন, কোনো ভয় নেই- ঐ যে শিশুদের ২ টাকার লজেন্স হাতে ধরিয়ে বলে না মা বাবা ২ হাজার টাকার, সেই ঘটনাটি ঘটছে এই দেশের সনাতনীদের সাথে।
দুর্গাপুজোর আগেই প্রতিমা ভেঙে, মন্দির ভেঙে একাকার করে ফেলছে হিন্দু বিদ্বেষী মৌলবাদীরা, এখন হঠাৎ বিএনপি ঘুম থেকে উঠে বলে দুর্গাপূজায় নাকি নেতাকর্মীরা প্রহরী হয়ে থাকবে।
তা ঘরের ক্ষতি হলে পাহারাদারের দোষ হয়, প্রশ্ন হয়, দায় নিতে হয়- মূর্তি ভাঙচুর হলে,সনাতনীদের ঘর পুড়লে বিএনপি দায় নেবে তো? প্রশ্ন করা যাবে?
আর কী বলবো?
কী বলছেন দেখি একটু:
আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঢাকাসহ সারাদেশের মণ্ডপে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবী ও প্রহরীর ভূমিকা পালন করবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তারা ঘুমহীন প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এইসব কথা বলেন।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রিজভী জানান, ঢাকাসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পূজা উদ্যাপন এবং উৎসবে শামিল হয়ে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এ জন্য সারাদেশে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা পালন করবেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নানাভাবেই দেশের বিরুদ্ধে, গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নীলনকশা কেউ কেউ করছেন। তবে সব ধরনের অপপ্রচার, অপকীর্তি ও ষড়যন্ত্র সরকার দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে দলের নেতাকর্মীরা সব সময় সতর্ক থাকবেন বলেও জানান তিনি।
রিজভী বলেন, নেতাকর্মীরা ঘুমহীন প্রহরীর মতো প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করবেন। এ বিষয়ে কী করণীয় এবং ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপির এ নেতা জানান, দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণে বিএনপি এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে একটি এবং ইমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আগেও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিএনপি অত্যন্ত সচেতন এবং দলের নেতারা এ নিয়ে সজাগ রয়েছেন।
