কুমিল্লা: বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা ধসে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের সাথে খোশ গল্পে মাতেন, কিন্তু তাদের জীবন যে কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করেন না! সরকার যদি চিন্তাই করতো তাহলে দেশের তো এই হাল হতো না।
১৪ বছরের এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে!
কুমিল্লার লালমাইয়ে নিখোঁজের একদিন পর সপ্তম শ্রেণির (১৪) এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশ জুড়ে বিস্তৃত সবুজ মাঠ।
সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে প্রায় ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ধানগাছগুলো এলোমেলো দেখা যায়।
বোঝা যাচ্ছে তাজমিন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সন্ধ্যায় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গিয়েছে, স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের বাসিন্দা । সে কুমিল্লা শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
তার বাবা ওষুধ কোম্পানি রেনাটা লিমিটেডের কুমিল্লা রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।
চাকরির জন্য তাঁদের পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমন্ডি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকে।
গলায় গামছা প্যাঁচানো আর মুখ মাটিতে চেপে রাখা অবস্থায় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর তারিখে তাজমিন শহরের এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা রেসকোর্সের ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে বের হয়। এবং বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়।
বুধবার রাত ২টা নাগাদ কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে নামার পর মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় পরিবারের। তারপর থেকে আর যোগাযোগ করতে না পেরে সকালে মেয়ের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
ফোনটির অবস্থান লালমাই থানা এলাকায় জানা যায়।
তারপর জগতপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তার বাবা।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান নিহতের বাবা।
