চট্টগ্রাম: সারা দেশে ডেঙ্গু চোখ রাঙাচ্ছে। চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বাড়ছে।
এবার আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বরে সেটি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই ধারা অক্টোবরেও চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাবধান করছেন বারবার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন প্রায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে ভ্যাপসা গরম। এমন আবহাওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মশার বংশবিস্তারের যথেষ্ট কারণ আছে দেশে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ২২০ জন। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে কখনো মাঝারি ও কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমছে। বিশেষ করে ফুলের টব ও ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত বস্তুতে পানি জমার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
তাই সবাইকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও যাতে তিনদিনের বেশি পানি না জমে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে দুই শিশুসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজুল মনিরা (৫) নামের এক কন্যাশিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকায় মোহাম্মদ রাফসান (২৬) নামের এক যুবক এবং এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফৌজদারহাট এলাকার বাসিন্দা তিন বছর বয়সী শিশু সিফাত মারা যান।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি)-এর ক্লিনিক্যাল এবং ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে।
জ্বর, মাথা ও শরীর ব্যথা হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাড়ির আশপাশ সর্বদা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মশার কামড় থেকে নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
