কক্সবাজার: নয়ন দাশ- একজন নিরামিষভোজী সন্ন্যাসী। গহীন পাহাড়ের চূড়ায় ধ্যান-সাধনায় মগ্ন থাকতেন। জীবনে বোধহয় স্ব-ইচ্ছায় একটা পিপড়াও মারেননি। এরকম ব্যক্তি সমাজের জন্য কখনো অনিষ্টকর হতে পারেন না।
সন্ন্যাসী জীবন-যাপন করা সাধু নয়ন দাশকে নির্মমতার শিকার হতে হলো! আর কত সনাতনী বলি হবে? কে বা কারা তাঁকে হত্যা করলো?
কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে অবনতি ঘটেছে। জেলা জুড়ে অত্যন্ত নাজুক অবস্থা। তার প্রমাণ এটি।
এত এত সনাতনী হত্যা করা হয়েছে, সাধু সন্তরাও বাদ যাচ্ছেন না। অথচ প্রশাসন মনে হয় বোবা, কালা হয়ে বসে আছে। হিন্দু বলে না হোক, অন্তত মানুষ বলে তো গণ্য করা হোক!
সাধু নয়ন দাশকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমনটাই দাবি।
কক্সবাজারের খুরুশকুলে মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুর বিভৎস মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সমাজের বিবেককে চরমভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনদিন নিখোঁজ ছিলেন তিনি। নিখোঁজ থাকার পর জঙ্গলে তাঁর অর্ধপোড়া ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে—পাহাড়ে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই নৃশংসতা প্রমাণ করে আমরা কতটা অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
বুধবার ২২ এপ্রিল দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড় থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায়।
মৃত উদ্ধার নয়ন দাশ (৪০) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকার গোপাল দাশের ছেলে।
তিনি খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব কালী মন্দিরের সেবায়েতকারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
গত ১৯ এপ্রিল রাতে নয়ন দাশ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন সকাল থেকে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
অবশেষে সোমবার বিকালে নয়ন দাশের স্ত্রী অঞ্জনা শীল কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজের সন্ধানে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে।
বুধবার সকালে খুরুশকুলের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড়ে গাছের সাথে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে।
পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, মৃতের শরীরে পঁচন ধরায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়াও উঠে গেছে।
জানা যায়, তাঁকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি ঘর থেকে ডেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলো।
১৯ এপ্রিল রাতের ঘটনা এটি। তারপর অনেক সময় হয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
পরদিন সকালে মন্দির থেকে অন্তত ৫০/৬০ গজ দূরে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের জঙ্গলে স্বামীর পরিহিত চাদর জাতীয় কাপড় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এতে অঞ্জনা শীল ধারণা করেন স্বামীর উপর বিপদজনক কোন কিছু ঘটেছে।
আশঙ্কা থেকে তিনি সোমবার কক্সবাজার সদর থানায় স্বামীর নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
