ঢাকা: প্রকৃতি তার সব রূপ রস ঢেলে দিয়েছে মনে হয় চলনবিলে।

প্রবাদ আছে, ‘বিল দেখতে চলন, গ্রাম দেখতে কলম।’ চলনবিল—যার নাম শুনলেই মনে আসে থইথই পানি, পদ্ম, অপরূপ প্রকৃতি।

ষড়ঋতুর এই দেশে প্রতি ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যায় চলনবিলকে। বর্ষায় সাগরের মতো বিশাল জলরাশি বুকে নিয়ে ভয়ংকর রূপ ধরে এই বিল, শরতে শান্ত জলরাশির ওপর সবুজ রঙের খেলা।

চলনবিলে সৌন্দর্য ছড়িয়ে ফুটেছে পদ্ম। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শাকুয়াদীঘি এলাকার বাঘমারা বিলে গিয়ে দেখা যায় পদ্মের সৌন্দর্য।

বাঘমারা বিলে গিয়ে দেখা যায়, শত শত পদ্ম ফুটে আছে। এই দৃশ্য উপভোগ করতে পর্যটক আর প্রকৃতিপ্রেমীরা আসছেন।

তাড়াশের স্থানীয় একটি ডিগ্রি কলেজের বাংলার শিক্ষক সনাতন কুমার দাশ বলেন, চলনবিলের বাঘমারা বিলে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে পদ্মফুল ফুটছে। প্রায় চার দশক এখানে এই ফুলের দেখা মেলেনি। পদ্মের এই সগৌরব প্রত্যাবর্তন শুধু তাড়াশ নয়, পাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষকেও আলোড়িত করেছে। তাঁরা এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন এই বিলে।

বর্ষার চলনবিলের রুদ্র মূর্তি এখন শরতে এসে শান্ত, জলরাশি স্থির। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা।

নানা রঙের ফুল, হরেক পাখির কলরব। এ যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সাজ। তাই চলনবিলে নিরাপদে নৌকায় ভ্রমণ করার জন্য শরৎই শ্রেষ্ঠ সময়।

নাটোর, পাবনা কিংবা সিরাজগঞ্জ—যেকোনো এক জেলা থেকে নৌকা নিয়ে ভেসে ভেসে আপনি যেতে পারেন বিলের গভীরে।

পর্যটকেরা চলনবিলের বিশালতা দেখে অভিভূত। লেখকেরা রচনা করেছেন বিভিন্ন কাহিনি। চলনবিলের মাছে ভোজ হয়েছে অভিজাত বাড়িতে। কালে কালে এসবের অনেকটাই এখন বিবর্ণ হয়ে গিয়েছে।

নৌকার গলুইয়ে বসে শরতের ভোরের হালকা কুয়াশা ভেদ করে যখন বিলের ভেতরে ঢুকবেন, চারপাশটা দেখে মনে হবে কোনো দক্ষ শিল্পী ক্যানভাসে গোলাপি আর সবুজের আল্পনা এঁকে রেখেছেন!

চলনবিল অঞ্চলের এই রূপ রূপকথাকেও হার মানায়। প্রায় চার দশক পর প্রাকৃতিকভাবেই এই বিলে আবার বিপুল পরিমাণে পদ্মফুল ফুটতে শুরু করেছে।

যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে এটি হতে পারে আপনার জন্য নিখুঁত একটি জায়গা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *