ঢাকা: সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত হাম এবং এর উপসর্গে ৩২৪টি শিশু মারা গেছে। হাম বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এমন রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিদিন শিশু মারা যাচ্ছে। এই যে হামে এখন শত শত শিশু মারা যাচ্ছে এমন ঘটনার ব্যাপারে কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার কোন কথা শোনেনি। ফলাফল এই যে আজ শত শত শিশুর মৃত্যু, বাবা-মায়ের আহাজারি! প্রতিদিন ১০/১২ জন করে শিশু মারা যাচ্ছে। এখন নাকি আবার কিট নেই পরীক্ষাগারে।
কিট না থাকায় আরো সুবিধা হয়ে গেলো। কিট নেই, পরীক্ষা নেই, হামও নেই। লুকোচুরির ব্যাপারও নেই।
সভ্যতার কথা বলে যে ব্যক্তি সিংহাসনে বসে দেশে তাণ্ডব চালিয়েছেন, শিশু মেরেছেন-এই শিশু হত্যার বর্বরতা তাঁর কী কোন বিচার হবে না?
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া পরিষ্কার করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে এবং প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি, রোগের প্রাদুর্ভাব, জটিলতা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুহারের ঝুঁকি নিয়ে তারা সতর্ক করেছিল।
কিন্তু বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে কোটি শিশুর জীবন রক্ষা করেছে যে ইউনিসেফ তাদের কথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে শোনেনি সেটা তো এখন পরিস্কার।
এই যে এখন শত শত শিশু হামে মারা যাচ্ছে তার দায় তাহলে কার? কী ভীষণ দুর্ভাগ্য আমাদের! এ বছরই বাংলাদেশ থেকে হাম রুবেলা নির্মূল করার কথা ছিলো! অথচ এখন রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যু দেখতে হচ্ছে!
শেখ হাসিনা থাকলে আজকে দেশের এই অবস্থা হতো না।
আচ্ছা যাদের অবহেলায় এতো শিশু মারা গেল, রোজ মারা যাচ্ছে তাদের কোন বিচার হবে না? কোন তদন্ত হবে না?
লেখক তসলিমা নাসরিন এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন! তিনি বলেছেন:
“২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুহাম্মদ ইউনূস ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে প্রচলিত টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন, এবং টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা কেনার উদ্যোগ নেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে টিকা আমদানিতে দেরি হয়।
ইউনিসেফ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে, এই পরিবর্তন টিকা কার্যক্রম ব্যাহত করবে, কিন্তু সরকার তা উপেক্ষা করে। যা হবার, তাই হলো।
হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দিল। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয় এবং কয়েকশো শিশু মারা যায়। এই পরিস্থিতিকে “অদূরদর্শী” ও “বেআইনি” বলে সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন প্রশ্ন হলো, ইউনুসের বিরুদ্ধে কি কোনও মামলা করেনি কেউ? করা তো উচিত”।
