চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম শহরের অলিগলিতে সন্ত্রাসীদের শত শত আড্ডাখানা। প্রশাসন ধরে না। এক ছাত্র চট্টগ্রামে খুন কেন? প্রশাসন নীরব কেন?

১৭ বছরের কলেজছাত্রকে খুন করা হয়েছে। নগরের চকবাজার থানাধীন ডিসি রোড এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) লিফটের গর্তে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাতে মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি ভবনে।

ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে মঙ্গলবার চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এবং ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নাকি গেট খুলে দিয়েছিলেন।

জানা গিয়েছে, নিহত আশফাক কবির বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তিনি নগরের বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রোববার তথা (১২ এপ্রিল) বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান কল করে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকায় ডাকে।

সেখানে পৌঁছানোর পর দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। আইমন, অনিক, রানা, মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

এই অস্ত্রধারীদের হাত থেকে নিজের প্রাণ বাঁচাতে আশফাক একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে পড়ে। এবং গেট বন্ধ করে দিয়ে আটতলায় উঠে যায়।

কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। তারা ওপরে গিয়ে আশফাককে মারধর করে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা জায়গায় ফেলে দেয়।

ঘটনায় গুরুতর আহত হয় এ শিক্ষার্থী। আশফাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেন এই ছাত্রকে হত্যা করা হলো? এর উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ জানান, অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *