ঢাকা: দেশে কি মহামারি আকার ধারণ করলো হাম? ভয়াবহ অবস্থা এক একটি পরিবারের।
একমাসে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে ১৯৮ শিশু মারা গিয়েছে। আরেকদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জ্বালায় জীবন অতিষ্ঠ, তেলের জন্য হাহাকার। বাজারে জিনিসপত্রের দাম তো আর বলেই কী হবে?
দেশটা একদম জগাখিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে। কোনো শৃঙ্খলা নেই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই।
দেশে গত এক মাসে হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেছে ১৯৮ শিশুর। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ শিশুর, এবং উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ১৯ হাজার ১৬১।
স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থায় স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁরা বলছেন, হামের প্রকোপ শুরুর পরপরই তা নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্তদের মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত জরুরি ছিলো। এখন টিকা দেয়া শুরু হলেও যারা আগেই আক্রান্ত হচ্ছে তাদের কী হবে?
রোগটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদারের দরকার ছিল। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সবদিকে ঘাটতি দেখা গেছে।
এরকম একটা ভাব সরকারের যে যার বাচ্চা সে-ই সামলাক।
দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয় গত মার্চে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন হাসপাতালে হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে শিশুদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
এরমধ্যে ২৪ ঘণ্টায় হাম অথবা উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে ৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সরকারি প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশু এবং উপসর্গে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জনের, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩২ জন।
এবং গত ১৫ মার্চ থেকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত হাম শনাক্ত হওয়া ৩২ জন এবং ১৬৬ জন উপসর্গ গিয়ে মারা গেছে। অর্থাৎ, ১৫ মার্চ থেকে এক মাসে প্রাণ গেছে ১৯৮ জনের।
টিকাদান শুরু হয়েছে ঠিকই কিন্তু সারা দেশে নয়। শিশুদের টিকাকরণ করাতে না পারলে বিপদ আরো বাড়বে।
তাছাড়া টিকা দেওয়া শুরু হলেও প্রচার দেখা যাচ্ছে না।
