চট্টগ্রাম: মর্মান্তিক সাথে নৃশংস ঘটনা সব ঘটছে বর্তমান সমাজে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি চিত্রা হরিণ প্রকাশ্যে জবাই করা হয়। এই লোমহর্ষক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বন্যপ্রাণী নিধনের এমন নৃশংসতা হয়তো ভিতরে ভিতরে ঘটেই চলেছে। সরকার, প্রশাসনের তরফে থেকে কড়া নজরদারি নেই।
মিরসরাই ইকোনমিক জোনের পাশের ম্যানগ্রোভ বন একসময় হরিণের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ ছিল।
সেই জীববৈচিত্র্যের সুন্দর জায়গা থেকেই এসেছে এক ভয়ংকর ও লজ্জাজনক খবর।
এ ধরনের ঘটনা শুধু নিষ্ঠুরতা নয়, এটি আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং আইনের ওপর সরাসরি আঘাত।
মিরসরাইয়ে উপকূলে একটি চিত্রা হরিণকে জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আগেই এই ঘটনা ঘটলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে শনিবার বিকেলে উপজেলার ইছাখালি ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকার হরিণ জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হরিণকে মাটিতে ফেলে একজন ব্যক্তি তার পা চেপে ধরে রেখেছেন, আরেকজন ধারালো দা দিয়ে গলা কাটছেন। ভয়ংকর সব ঘটনা। যা আমরা দেখে সহ্য করতে পারি না। ঘটনাস্থলে আরও একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিও ধারণের সময় জবাইয়ে জড়িত একজন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান কেন ভিডিও করা হচ্ছে। জবাবে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি এতে সমস্যা কোথায় তা জানতে চাইলে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একসময় মিরসরাইয়ের উপকূলজুড়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল সবুজ ম্যানগ্রোভ বন। সেখানে হাজারো হরিণসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ছিল।
তবে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলায় বন উজাড় হওয়ায় বন্যপ্রাণীর সংখ্যা একদম কমে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিণটি সম্ভবত দলছুট হয়ে উপকূলীয় বন থেকে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছিল। এই সুযোগে অসাধু চক্র বন্যপ্রাণীটিকে শিকার করে প্রকাশ্যে জবাই করে।
এ বিষয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ বলেন, “ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তারা স্থানীয় একটি খামারে কাজ করেন বলে জানতে পেরেছি। জড়িতদের গ্রেফতারে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।”
বন বিভাগের টহল জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে জনগণ।
