জয়পুরহাট: দেশে নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে। পড়ালেখা করা, কর্মরত মহিলাদের ওপরই অমানুষিক নির্যাতন চলে, আর সোজা সাপ্টা মহিলাদের ওপর তো চলবেই। সমাজটা পচে গেছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা মুক্তি নেই!
বিভৎস এক ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। যৌতুকের দাবিতে মাছুদা বেগম নামে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে তাঁর স্বামী।
অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। স্ত্রীর দাঁত ভেঙে দেয় হাসান টাকার জন্য।
গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মারা যান মাছুদা।
এই মৃত্যুর জন্য একমাত্র তাঁর পাষণ্ড স্বামী।
এই ঘটনায় মাছুদার ভাই বছির উদ্দিনের করা মামলায় শুক্রবার রাতেই মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে কালাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। নিহত মাছুদা বেগম পাশের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২০ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মাছুদার কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন তার স্বামী।
দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের জন্য মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়।
তারপর প্লায়ার্স দিয়ে তার মুখে আঘাত করে ভেঙে দেয়া হয় দুটি দাঁত। তারপর কাস্তে গরম করে তাঁর হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
নির্যাতনের পলে মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতেই তিনি মারা যান।
