বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলীর (রহ) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা একমাত্র মাদি কুমির একটি কুকুরকে শিকার করেছে। শিকার করেছে বললে ভুল হবে তাকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের বাগেরহাটের হজরত খানজাহানের মাজারের দিঘিতে।
সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। একাধিক নারকীয় ঘটনার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে।
কয়েক মাস আগে হিন্দু যুবক দীপুকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল!
এখন তো প্রশ্ন থেকেই যায়, যে দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই, সেই দেশে একটা কুকুরের নিরাপত্তা থাকতে পারে?
এ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। এরপর কুকুরটির মাথা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়।
কেউ কেউ বলছে, কুকুরটির জলাতঙ্ক ছিলো, অনেককে কামড়েছে। কামড়ে যদি থাকে, তাকে হাসপাতালে অন্য ব্যবস্থা করা যেতো, এভাবে কেন কুমিরের খাদ্য হিসাবে কুকুরটিকে ছেড়ে দেয়া হলো?
সে দৃশ্য দেখে কোনো দরদী মানুষ চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না। কুকুরটি যে কত করুণভাবে তাকিয়ে ছিলো। হয়তো আশা ছিলো তাকে বাঁচানো হবে, কিন্তু নাহ!
কুকুর তো আর জানে না এই বাংলাদেশে যে কত হত্যাকারী আছে! পরোক্ষ, প্রত্যক্ষ সব হত্যাকারী আছে।
বাগেরহাটে একটি কুকুরকে কুমিরের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কুকুরটা একজন মানুষকে বিশ্বাস করে তার কথা শুনেছিল। তার একটুও সন্দেহ হয়নি যে সে একটি টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে৷ কারণ সে কুকুর,মানুষ নয়। বিশ্বাসঘাতকতায় সে অভ্যস্ত নয়।
অবলা একটি প্রাণী। সে বোকা। কথা বলতে পারেনা। দুঃখ কষ্ট বোঝাতে পারেনা। বোঝেনি তাকে নিয়ে কী খেলা চলছে।
ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “বাগেরহাটের খান জাহান আলী মাজারের পুকুরে এই ঘটনা ঘটেছে। একটা কুকুরকে চার পা ভেঙে পুকুরঘাটে ফেলে রাখা হয়েছে যেন নড়তে না পারে, যেন ক্ষুধার্ত কুমীর এসে কুকুরটাকে খেয়ে যায়।
পুকুরে কুমীর পুষতে হয় কেন? কুমীরের বাসস্থান তো পুকুর নয়! কুমীরকে কি জ্যান্ত প্রাণী খেতে দেওয়া হয়? নাকি জ্যান্ত কুকুরটির কী দুর্দশা হয়, দেখে খুশিতে হাততালি দেওয়ার জন্য?
কুমীর আসছে দেখতে পেয়ে বার বার কুকুরটি মানুষের দিকে তাকাচ্ছিল যেন তাকে কুমীরের হাত থেকে তারা বাঁচায়।
যারা কুকুরটিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, যারা কুকুরটিকে সামনে থেকেও বাঁচায়নি, তাদের আমি ধিক্কার জানাই। তাদের বিচার হোক, বিচারে যাবজ্জীবন হোক।
মৃত্যুদণ্ডে বিশ্বাস করি না, করলে মৃত্যুদণ্ডই চাইতাম। মানুষ এই পৃথিবীতে বসবাসের যোগ্য নয়। অন্য প্রাণীদের সঙ্গে বসবাসের যোগ্য নয় মানুষ। মানুষ বিলুপ্ত হোক। মানুষ বিলুপ্ত হোক”।
