ঢাকা: মানিক পশারী একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
আর এই ক্ষোভ দেখালো রাজাকার জামাত মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুয পর। আগেও দেখিয়েছে হুমকি ধামকি দিয়েছে।
গত ২৪ অক্টোবর গোপালগঞ্জে মারা যাওয়ার পর তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসলে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ ঘণ্টা দাফন আটকে থাকে।
রাতের আঁধারে পুলিশ পাহারায় দাফন সম্পন্ন করতে হয়।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে না আসায়, তার মেয়ে ও বোনদেরকে নিজ হাতে কবর খুঁড়তে হয়। দুর্ভাগ্য এই বাংলাদেশের।
এতবড় ঘৃণ্য ঘটনাগুলো ঘটছে, বিএনপি কিন্তু একদম চুপ।
বিএনপি সরকারের সাথে জামাতের আঁতাত আবারও প্রমাণিত। বিএনপি নাকি মুক্তিযুদ্ধের দল?
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের এই গেজেটেড বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন।
তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে বাদী ও সাক্ষী হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আর সেই ক্ষোভে মৃত্যুর পরেও এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়নি জামায়াত-শিবিরের উগ্র চক্র।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির মৃতদেহ দাফনে জামায়াতে ইসলামীর বাধা দেয়ার উক্ত ঘটনায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
শিক্ষার্থীরা যে কুশপুত্তলিকা দাহ করেন, তাতে ‘পাকিস্তানের দালাল’, ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল।
১০/ ১২ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া এবং তাঁকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) না দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়। কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচির সঞ্চালক ও বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, “রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ভূখণ্ডগতভাবে পাকিস্তান পন্থা জিইয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে, এর চেয়ে লজ্জাকর কিছু হতে পারে না।”
তিনি আরো বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। আমরা তখন মনে করেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত নয় বলেই হয়তো এমনটা ঘটছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে যে নির্বাচিত সরকার এল, তাদের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হলো। এটি চরম ঘৃণ্য একটি কাজ। আমি সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া বলেন, “দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। কাদের বাধার কারণে এটি হতে পারেনি, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। তারা ধর্মকে সব সময় রাজনীতি করার জন্য ব্যবহার করেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, তারা ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী একজন মুসলিমের দাফন কার্যক্রম পর্যন্ত সম্পন্ন হতে দেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা ২৪-এর নাম করে ৭১-কে নস্যাৎ করতে চান, তাদের চিনে রাখা দরকার। যারা ৭১-কে ধারণ করতে পারেন না, তারা কোনো দিন ২৪-কেও ধারণ করতে পারবেন না। সরকার জনগণের হলে ২৪ ও ৭১-এর চেতনাকে ধারণ করত। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাধা দেওয়া হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করত। কিন্তু আইন আজ মব সৃষ্টিকারী ও উগ্রপন্থীদের হাতে বন্দী।”
ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর আঘাত এলে গুটিকয় নয়, বরং হাজারে হাজারে মানুষ রুখে দাঁড়াবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
