ঢাকা: ভাত চুরি করে খেয়েছে-এই অজুহাতে মেরে ফেলা হলো কত অনায়াসে এক ছাত্রকে।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে সে ভাত চুরি করে খেয়েছে! বিশ্বাস হয়? আর যদি খেয়েও থাকে, তাকে মেরে ফেলতে হবে?!

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এই ঘটনা ঘটে।

সার্টিফিকেটধারী হলেই যে মানুষ হওয়া যায় না, আবারও তা প্রমাণিত!

শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সকালে ঘুম থেকে শোনা যেতো – এই প্রকল্প উদ্বোধন, সেটার উদ্বোধন – এখন শোনা যায় এই জায়গায় হত্যা, সেই জায়গায় হত্যা! এটাকে বলে জঙ্গলরাজ।

দেশটায় মানুষ নেই, উগ্রপন্থীরা ডানা মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ঘটনাটি খুলনার। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আজমল হোসেনকে পাঁচতলার ছাদে নিয়ে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে।

নিহত মো. আজমল হোসেন (২২) খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা উপজেলার বড় শোলুয়া গ্রামে।

পুলিশ বলছে, ছাদ থেকে তিনি নিজে লাফ দিয়েছিলেন নাকি তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে; উদ্ধারের চেষ্টা চলছে সিসিটিভি ফুটেজও।

পুলিশের কাছে শুধু নিজেই করেছে এটাই কেন মনে হয়? নির্যাতন করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে এটা কেন মনে হয় না?

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় আকিবের বাড়িতে ভাড়া দেওয়া একটি মেসে থাকতেন আজমল।

ওই মেসের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো বেলায় খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তা দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানাতে হয়।

কিন্তু শুক্রবার রাতে খাবারের বিষয়টি নিশ্চিত না করেই আরেকজনের ভাত নাকি খেয়ে ফেলেন আজমল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর চড়াও হন মেসের অন্য সদস্যরা।

কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আজমলকে পাঁচতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে বেদম মারধর করা হয় এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান আজমল।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাতে হঠাৎ শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে দেখি ছেলেটা পড়ে আছে। ভ্যানে তোলার সময় দেখলাম তার সারা শরীরে আঘাতের কালচে দাগ। ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আজমলের মা। তিনি বলেন, আমার ছেলের শরীরে কোনো জায়গায় বাদ নেই, পিটিয়ে সব কালো করে ফেলেছে।

নিহত আজমলের বাবা কুতুবউদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে মেস থেকে আজমল তাকে ফোন করেছিলেন। তাকে বাঁচাতে আকুতি জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে ফোন দিয়ে বলে, আব্বু, আমি ভাত খেয়েছি বলে ওরা আমাকে মারধর করছে। ওরা বলছে, আমি নাকি ভাত আর টাকা চুরি করেছি।

এরপর এক ছেলের সঙ্গে কথা বললে সে বলে, আপনার ছেলে ২৩শ টাকা চুরি করেছে; এক লাখ টাকা নিয়ে এখানে চলে আসেন।

টাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে ওই রাতে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বাবা। কিন্তু এরপর থেকেই ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ পান তিনি।

কুতুবউদ্দিন বলেন, আমার ছেলেকে ওরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মোবাইল চুরির সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে ভাত খাইয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ঠিক তার দুই বছর পর, আবারও একই ধরনের অমানবিকতার ঘটনা! এবার অবশ্য ‘ভাত খাওয়ার অপরাধে’!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *