ময়মনসিংহ: সন্তান মারা গেছে, তা যেভাবেই মারা যাক- জঙ্গী আন্দোলন হোক বা অন্য কারণে- মারা গিয়েছে তো!

ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাঁদছে মা, আর অন্যদিকে ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বাবা করেছেন আরেকটা বিয়ে। তাঁর যুক্তি বংশের প্রদীপ লাগবে। অথচ সংসারে তাঁর রয়েছে একটি মেয়ে।

এদের স্বভাব চরিত্র আসলে কোনোদিন পাল্টাবে না। এরা সভ্য হবে না।

স্ত্রী ও মেয়ে দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রী ও মেয়ের উপর শুরু হয় পাষণ্ডের অকথ্য নির্যাতন।

ঘটনায় মনের কষ্টে ও অভিমানে গত ২ জুন জুলাই শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের মা মমতাজ বেগম একমাত্র মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিন ওরফে স্মাইলকে নিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

শাহরিয়ারের মায়ের অভিযোগ, তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ একমাত্র ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুকে পুঁজি করে শুরু থেকেই নানা ধরনের ধান্ধাবাজি ও প্রতারণা শুরু করেন। আমি বারবার নিষেধ করার পরেও তিনি আমার কোন কথাই শুনতে চাননি।

এমনকি এক জুলাই শহীদের মাকেও বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। অনেক বুঝিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

সর্বশেষ তিনি গত মাসের ২৯ মে (শুক্রবার) আমার অনুমতি ছাড়া ছেলের ভাতার অনুদানে ৭ লাখ টাকার কাবিন ও ৫ লাখ টাকার গহনা পরিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের করে নতুন বউ বাড়িতে নিয়ে এসেছেন।

জানা গেছে, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) ঢাকার মতিঝিলে আলফা গ্রুপের একটি শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

তাঁর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)। তাদের একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মারা যান। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর আব্দুল মতিন ও মমতাজ বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর চলতি বছরের ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন। বিয়ের পর থেকেই পরিবারে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

মমতাজ বেগম বলেন, ‘সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতেই পারিনি। এর মধ্যেই আমার অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিনি দাবি করছেন আমি সম্মতি দিয়েছি, কিন্তু সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার জানামতে, তার নিজের সামর্থ্যে এত দামি স্বর্ণালংকার কেনা সম্ভব নয়। আমার শহীদ ছেলের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদানের টাকার ওপর ভর করেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে তার স্বাক্ষর জাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ারও চেষ্টা করেছেন আব্দুল মতিন।’

এদিকে এইসব অভিযোগ নাকচ করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, ‘বংশ রক্ষার স্বার্থে এবং আমার মায়ের অনুরোধে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিয়ের আগে আমার প্রথম স্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন। আমি চাকরি করি এবং নিজের উপার্জনের টাকায় বিয়ে করেছি। শহীদ ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করেছি, এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *