শেরপুর: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, মারপিট, অত্যাচার তো চলতেই থাকে- এখন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আচমকা নিখোঁজ। কোথায় গেলো, তাদের সাথে কী ঘটলো কারো কোনো খবর নেই। যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো পাঁচজন।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে ১২ দিনের ব্যবধানে একই দিনে তিন শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। তাদের সবার বয়স এগারো থেকে পনেরো বছরের মধ্যে।

তাঁদের কী ধর্ষণ করে মেরেই ফেলা হলো? সন্দেহ গাঢ় হচ্ছে। অথচ এইসব ঘটনা ঘটতে থাকলেও সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রায়ই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষকের নির্যাতনের খবর সামনে আসছে।

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা-মক্তবে অহরহ সংঘটিত ‍নৃশংস কাজের প্রতিরোধ না করে অনেকে হুজুরদের সাফাই গায়। এমন আচরণ ধর্ষকদের উৎসাহিত করছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা, ঘৃণা আর অনাস্থায় পরিণত হচ্ছে।

এই ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ অন্যান্য অভিভাবকদের মাঝেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৭ মে সকাল দশটার দিকে উপজেলার বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের আব্দুল হাই এর ছেলে এবং স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার পনেরো বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইসরাফিল দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়।

এরপর, গত ৬ জুন নালিতাবাড়ী শহরের আড়াইআনী বাজারের পাশের তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদ্রাসারশিক্ষার্থী ও উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের খন্দকার মোবারক হোসেনের ১৩ বছর বয়সী ছেলে খন্দকার মাশরাফি মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়।

৭ জুন দুপুরে উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের ইক্বরা মডেল হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে একই গ্রামের উকিল মিয়ার ১১ বছর বয়সী ছেলে রাব্বানী, মানিক মিয়ার ১২ বছর বয়সী ছেলে তোফায়েল, আব্দুল আওয়ালের ১৩ বছর বয়সী ছেলে রাসেল নিখোঁজ হয়।

নালিতাবাড়ী সার্কেল-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম বলেন, ‘মাশরাফি ও ইসরাফিরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পাঁচগাঁও থেকে নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর সাধারণ ডায়েরি করতে সোমবার তাদের অভিভাবকরা থানায় এসেছেন। শিশুদের উদ্ধারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *