রাঙামাটি: রাঙামাটির সাজেক থেকে জেএসএস (সন্তু লারমার) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ৫ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ গণতান্ত্রিক সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।
শীঘ্রই সাজেকবাসীর পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাঁচ সংগঠন।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে বিবৃতিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, গত ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।
একই সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
তাঁদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উজোবাজারের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া; বাজার থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের মারধরে আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা; এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া; তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করা এবং আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কনিকা দেওয়ান, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ’জনগণের জানমালের নিরাপত্তা হরণকারী সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে, বরং যারা সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবি জানাচ্ছে তাদের ওপর বর্বারোচিত হামলা চালানো হয়েছে, যা সভ্য দেশে একেবারে অকল্পনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।’
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের যে কোন ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করাকে ক্রিমিন্যালাইজ করা হচ্ছে। এমনটাই সরাসরি মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।
বলেন, ‘গত বছরও খাগড়াছড়ির গুইমারায় ধর্ষকদের গ্রেফতারের দাবিতে পাহাড়িদের আন্দোলনকে উগ্র বলপ্রয়োগ ও সাম্প্রদায়িক হামলার মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় তিন জন পাহাড়ি যুবক প্রাণ হারিয়েছিলেন।’
গুইমারার ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ সাজেকের উজো বাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ হামলা চালায়।
তাঁরা বলেন, “তাদের বেপরোয়া লাঠিচার্জে ৭০ জনের অধিক নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধ আহত হন। এছাড়া হামলাকারীরা ঘরবাড়ি-দোকানপাট এবং সাজেক কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।”
এই বিষয়ে আমরা আগের প্রতিবেদনেই জানিয়েছি।
এদিকে, হামলাকারীদের অপরাধ আড়াল করার জন্য ঘটনার মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছে মন্তব্য করে পাঁচ সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘ইউপিডিএফ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক পর্যটকদের ওপর গুলি করা হয়েছে বলে আইএসপিআর ও রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে তা শতভাগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
সেনাবাহিনীর হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ র বেশি। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দা জনক।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা, নিজের মত প্রকাশ করা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু অবরোধ কর্মসূচিতে নগ্ন হামলা, নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সাজেকবাসীর সংবিধান-স্বীকৃত মৌলিক অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে।’
সাজেকের পরিস্থিতি এইভাবে শান্ত হবে না। বরং আরো উত্তপ্ত হবে। এটার সুষ্ঠু সমাধান চাই।
আলোচনার মাধ্যমে সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি পূরণ না করে যদি উগ্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয় তাহলে সাজেকের পরিস্থিতি আরও বেশি অশান্ত ও অস্থিতিশীল হবে এবং তখন পর্যটনসহ সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে পাঁচ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
