নেত্রকোনা: কৃষকের সারা বছরের কষ্ট, পরিশ্রম সব পানির নিচে চলে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ হাওরের কৃষকদের করুণ পরিণতি।
অকাল বন্যা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন। মাঠভরা সোনালি ধান আজ পানির নিচে।

নেত্রকোনায় তলিয়ে গেছে বোরো ফসল।
টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার হাওর ও নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এতে হাজার হাজার কৃষকের বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
ভোগাই-কংস নদী-এর পানি বিপদসীমার এক মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, উপদাখালি নদী-তেও পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
একই সঙ্গে পানি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কাঁচা ঘরবাড়ি, ঘটছে প্রাণহানিও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
কলমাকান্দা উপজেলার কৃষক আবুল মিয়া বলেন, ‘১৫ কাঠা জমির ধান পানিতে তলায়া গেছে। আর কিছু করার নাই— চোখের সামনে সব শেষ অইতাছে।’
মদন উপজেলার কৃষক গফুর মিয়া বলেন, ‘১২০ কাঠার মধ্যে ২০ কাঠা পানিতে গেছে। কাটার পর ধানও শুকাইতে পারতাছি না, বিক্রিও করতে পারতাছি না।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে ধান কাটার গতি কমে গেছে। যেখানে প্রতিদিন হাওরে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হতো, তা কমে এখন এক হাজার হেক্টরের নিচে নেমে এসেছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ৬ হাজার শ্রমিক চেয়ে ঢাকায় আবেদন করা হয়েছে।
