ঢাকা: ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। সেই কাজটাই মন দিয়ে করে চলেছে ইমাম সাহেব নামক বীর পুরুষেরা।
যুক্তরাষ্ট্র, লণ্ডন, কোনো জায়গা বাদ নেই এই চরিত্রহীন, অপদার্থদের। নারী আর শিশু দেখলেই এদের চরিত্র স্খলন ঘটে। মাদ্রাসায় প্রতিদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পূর্ব লন্ডনের কমিউনিটিতে ‘সম্মানিত’ হিসেবে পরিচিত সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খানকে (৫৪) নারী ও শিশুদের ওপর ধারাবাহিক এবং ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন আদালত।
১১ বছর ধরে কম করেও সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর পৈশাচিক নিপীড়ন চালিয়েছেন তিনি।
এই অপরাধে তাঁকে যাবজ্জীবনের সাজা দেওয়া হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী, তাঁকে কমপক্ষে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত খানকে মোট ২১টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণ করেছে, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হালিম খান ধর্মীয় প্রভাব ও অবস্থানের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির নারী ও শিশুদের টার্গেট করতেন।
বিচারক লেসলি কাথবার্ট সাজা ঘোষণার সময় বলেন, ‘আপনি নিজের পাশবিক লালসা চরিতার্থ করার জন্য ক্ষমতার পদ্ধতিগত অপব্যবহার করেছেন। এমনভাবে আচরণ করতেন যেন আপনি আইনের ঊর্ধ্বে বা ধরাছোঁয়ার বাইরে।’
আর এত চতুর এই ব্যক্তি ছিলেন যে, কৌশলে এমন এমন ভুক্তভোগীদের বেছে নিতেন, যাঁরা লোকলজ্জা বা ধর্মীয় কারণে মুখ খুলতে ভয় পাবেন।
তিনি জানতেন যে যদি কেউ অভিযোগ করে, তবে মানুষ একজন ‘সম্মানিত ইমামের’ কথাই বিশ্বাস করবে। এই কথা বিচারক উল্লেখ করেন পরিষ্কারভাবে।
আব্দুল হালিম খান ভুক্তভোগীদের নিয়ে মাইণ্ড গেইম খেলতেন। তিনি জোর করে বিশ্বাস করাতেন যে তাদের ওপর বদ জিনের আছর আছে।
চিকিৎসা করানোর নামে তিনি তাদের নির্জন ফ্ল্যাট বা গাড়িতে নিয়ে যেতেন। সেখানে তিনি নিজের ওপর ‘জিন’ ভর করার অভিনয় করতেন এবং এই ছদ্মবেশে তাদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন চালাতেন।
শিশু সুরক্ষা বিষয়ক যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা NSPCC এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, ধর্মীয় বিশ্বাসের আড়ালে শিশুদের ওপর এমন নির্যাতন সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি এবং আদালতের এই রায় ভবিষ্যতের অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে।
