ঢাকা: বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার  আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার কারণে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অকৃত্রিম ঋনে আবদ্ধ সারাবিশ্বের সকল বাঙালি।

যদিও ‘সোনার বাংলা’র রচয়িতাকে এই দেশে রাজাকার, পাকিস্তানপন্থীরা মর্যাদা দেয় না, এমনকি জাতীয় সঙ্গীত গাইতেও তাদের দ্বিধা। তবে এতে করে কবিগুরুর মর্যাদা কমে না।

২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ (৮ মে ২০২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এবং মৌলবাদী, পাকি গোষ্ঠী যে রবীন্দ্র বিরোধিতা করে তার সমূহ জবাব দেয়ার কথাও তিনি বলেন।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, পহেলা বৈশাখ- বাংলা নববর্ষ বাঙ্গালীর একটি সার্বজনীন উৎসব এবং বাঙ্গালির প্রধান উৎসব।

এদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী এই উৎসবের বিরোধিতা করে যেমন বিরোধিতা করে একুশে ফেব্রুয়ারি, শহীদ মিনার, রবীন্দ্র সংগীত, লালন গীতি সহ সব ধরনের বাঙ্গালী উৎসবের। আসলে এরা সব সময় ঐ পাকি ভাবধারায় কথা বলে।

পাকিরা ছিল বাঙ্গালীয়ানার শত্রু আর এই শত্রুতা মিটাতে তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছে যা এদেশের ধর্মান্ধরা কোনদিন বোঝেনি।

ফেসবুকে আওয়ামী লীগের পেজে প্রকাশ করা হয়েছে শেখ হাসিনার বক্তব্য।

শেখ হাসিনা বলেন,

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

প্রিয় দেশবাসী,

বিরল প্রতিভার শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি আমাদের সৃজন-মনীষার প্রতীক। তাঁর চিন্তা-চেতনা ও মননের সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার স্ফূরণ ঘটেছে। নানা দিকদর্শী সৃষ্টি ও কল্যাণমুখী কর্মতৎপরতার কারণে রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে স্মরণীয় ও বরণীয়।

হাসিনা আরো বলেন,

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

বিপুল সৃষ্টি কাজেকর্মের পাশাপাশি বাংলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও আমৃত্যু তিনি ছিলেন সক্রিয়।

গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘শ্রীনিকেতন’। মধ্যবিত্ত বাঙালির মননগত বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিদ্যালয়। পূর্ববাংলা তথা আজকের বাংলাদেশে দরিদ্র প্রজাদের ভাগ্যোন্নতির জন্য তিনি সমবায় ব্যাংক, সমবায়নীতি ও কল্যাণবৃত্তি চালু করেন।

প্রতিষ্ঠা করেন হেলথ্ কোঅপারেটিভ্ সোসাইটি ও কৃষি ল্যাবরেটরি। কুটিরশিল্পের উন্নয়নেও কাজ করেছেন রবীন্দ্রনাথ।
আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মহান এক প্রেরণা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও অনুপ্রেরণা তিনি। পাকিস্তান সরকার ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘আমরা রবীন্দ্রনাথের বই পড়বই, আমরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবই এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত এ দেশে গীত হবেই।’

রবীন্দ্রনাথের গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচন বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণারই প্রতিফলন।

প্রিয় দেশবাসী,

রবীন্দ্রবিরোধিতা ষাটের দশকেই মিটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পার হওয়ার পরও পাকিস্তানের ছায়ামুক্ত হতে পারিনি আমরা।

স্বাধীনতাবিরোধিরা ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে সমস্ত অর্জনকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। ফলে রবীন্দ্রনাথ আরো বেশি প্রাসঙ্গিক এখন। মৌলবাদী শক্তি অতীতের মতো আজও তাঁকে টার্গেট করছে।

আমাদের কাজ হবে রবীন্দ্রনাথকে আরো বেশি চর্চা করে তার জবাব দেওয়া।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *