নাটোর: এমন যদি হয় দেশের অবস্থা, দেশের পর্যটকরা যদি এই দেশটায় এসে নিরাপত্তা না পায়, তাদের হয়রানি করা হয়, ছিনতাই করা হয়- তাহলে বাংলাদেশের মান থাকে কী করে?

অবশ্য আমাদের দেশে তো জনগণেরই কোনো নিরাপত্তা নেই, সেখানে বাইরের দেশের মানুষের নিরাপত্তা থাকে কী করে?

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য কাছ থেকে দেখার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন নিয়ে সুদূর ইউরোপ থেকে পা রেখেছিলেন জার্মান পর্যটক ক্রিল লেন্ডার উইবার (Crile Lender Weber)।

কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণ ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এক পলকে রূপ নিয়েছে এক চরম হতাশা, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার তিক্ত অভিজ্ঞতায়।

নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত জনবহুল স্থানের ভিআইপি বিশ্রামাগারে বসে থাকা অবস্থায় অত্যন্ত সুকৌশলে তাঁর বহুমূল্যবান ল্যাপটপ এবং পেশাদার ক্যামেরাভর্তি ব্যাগ চুরি করে নিয়ে গেছে এক ধূর্ত প্রতারক।

কতটা লজ্জাজনক ঘটনা হতে পারে এটি!

​বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ও ন্যক্কারজনক ঘটনাটি নাটোর জেলাজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দেশের সংরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনগুলোতে সাধারণ নাগরিক তো বটেই, বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?

ঘটনায় নাটোর সদর থানায় তিনি একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে বুধবার দুপুরে সান্তাহার রেলস্টেশন থেকে নাটোর উদ্দেশ্যে রাজশাহীগামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেন ওই জার্মানি তরুণ।

বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনে নামেন। নাটোর থেকে অন্য ট্রেনে ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনা স্টেশনের দিকে যাওয়ার কথা ছিল জার্মানি তরুণের।

নাটোর স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার কক্ষে অবস্থানের সময় এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। একপর্যায়ে ওই যুবক ছলচাতুরি করে ক্রিল ল্যান্ডারের ব্যাগ, ল্যাপটপ ও ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ব্যাগ না পেয়ে নাটোর স্টেশনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।

নাটোর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সান্তাহার রেলওয়ে থানাকে অবহিত করেন। জার্মানি তরুণকে নাটোর সদর থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন নাটোর স্টেশন কর্তৃপক্ষ। জার্মানি তরুণ থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানান, বিষয়টি জিআরপি পুলিশের। যেহেতু তিনি বিদেশি নাগরিক, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, নানান ধরনের চতুর কথাবার্তায় পর্যটকের মনোযোগ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে টেবিল বা পাশে রাখা বহুমূল্যবান ল্যাপটপ এবং ক্যামেরাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ভিআইপি বিশ্রামাগার থেকে লাপাত্তা হয়ে যায় ঐ প্রতারক।

ব্যাগটিতে শুধু ল্যাপটপ বা দামি ক্যামেরাই ছিল না, বরং তাতে ছিল তাঁর সুদীর্ঘ ভ্রমণকালের বহু দুর্লভ ছবি, ব্যক্তিগত নোট, গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ফাইল এবং জরুরি যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ডেটা, যা তাঁর পুরো যাত্রাকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *