ঢাকা: এই দেশে সনাতনীরা নিজেদের জায়গায় বরাবর অটুট আছে, অটুট নেই মৌলবাদী মুসলমানরা।

হিন্দু হত্যা করতে করতে কয়টা হিন্দু এখন দেশে আছে? তাঁদের তো এই দেশে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

অথচ এত অত্যাচারের পরেও দেখুন একজন মুসলিম ছেলের চাকরি চলে যাচ্ছিলো, সেই চাকরি নিশ্চিত করতে হিন্দু একজন প্রতিবেশী তাঁকে জমি লিখে দিয়েছেন!

এই অবদান অবশ্যই ঐ মুসলমান যুবকের এবং পরিবারের সারা জীবন মনে রাখা উচিৎ। কৃতজ্ঞতা না থাকলে মানুষ কিসের? হয়তো রাখবেন!

রাখবেন নাকি রাখবেন না- সেই সব তো পরের বিষয়- সেই কথা মাথায় আনেননি হিন্দু প্রতিবেশী। তিনি সেবা করেছেন। এর মূল্য কোনো কিছুর বিনিময়েও চুকানো যায় না।

এক শতক জমি—কিন্তু এর দাম হয়তো একটি জীবনের সমান!

চাকরি পেয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এক মুসলিম তরুণ। কারণ, তাঁর বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি ছিল না। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতেই বসবাস করছিল।

খবরটি জানার পর প্রতিবেশী এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভদ্রলোক যা করলেন, সেটিই সবচেয়ে আগে মুসলমানদের শিক্ষার বিষয়।

কোনো টাকা নিলেন না, কোনো বিনিময় চাইলেন না, প্রচারের জন্যও কিছু করলেন না—নিজের জমি থেকে এক শতক জমি ওই তরুণকে দান করে দিলেন। যাতে চাকরিটা হয়!

একবার ভাবুন—তিনি চাইলে পাশ কাটিয়ে যেতে পারতেন। তাঁর কোনো প্রয়োজনই ছিল না। হিন্দুদের জমিই দখল হয়ে যাচ্ছে, তাঁরা আর দেবে কী?

উদারতা হিন্দুদের কাছে শিখতে হয়।

‎সম্পত্তি না থাকা মুসলিম যুবককে জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী এমনকি রেজিস্ট্রেশন খরচও তিনি দিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ঘটনা এটি।

হিন্দু ব্যক্তিটি শুধুমাত্র নিজের মহত্ব, মানবতা দিয়ে কট্টরপন্থী মুসলমানদের গালে একটা চড় মেরে দিয়েছেন।

বাংলাদেশের মানুষ তো শেখে না, নিজেই সব জানে। একটু না শিখলে মানুষ হওয়া যায় না।

মুসলিম তরুণকে কোনো ধরনের আর্থিক বিনিময় ছাড়াই এক শতক জমি দান করেছেন তাঁর হিন্দু প্রতিবেশী।

রবিবার (৪ অক্টোবর) জুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে সরকারি বিধিবিধানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দাতা ও গ্রহীতার পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণটির চাকরির ভেরিফিকেশনসংক্রান্ত জটিলতার কথা জানতে পেরে প্রতিবেশী ওই ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণ সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি পাওয়ার পর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়েন।

জুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন বলেন, চাকরি পাওয়া ওই মুসলিম তরুণের বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় ভেরিফিকেশনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তার প্রতিবেশী এক হিন্দু ব্যক্তি কোনো বিনিময় ছাড়াই এক শতক জমি দান করেছেন।

এমনকি জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচও তিনি নিজেই বহন করেছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *