ঢাকা: কাঠমোল্লা, জামাত শিবির, হিন্দু বিরোধী, শয়তান, পাকিস্তানপন্থীদের কাছে বনলতা এক্সপ্রেস একটা অপরাধী সিনেমা। সুস্থ সংস্কৃতির কথা ভাবাও অপরাধ এই মুহূর্তে এই দেশে।

নাহ! আপনি যদি (ক্ষমা করবেন, উদাহরণের জন্য বলছি) ধর্ষণের কথা ভাবেন, সেটা অবশ্যই ভাবতে পারেন। সেখানে কোনো আপত্তি নেই। আলেম, উলামা, হুজুররা তো সারাদিন রাত পর্ণ দেখে সেটায় কোনো দোষ নেই।

কিন্তু একসাথে দুটো ছেলেমেয়ে যদি ভর্তি পরীক্ষা দিতে রায়, পড়াশোনা করে সেখানেই ওঠে গেলো গেলো রব। কারণ ওরা শুধু চেনে দুটো ছেলে মেয়ে একসাথে থাকা মানেই যৌনতা। অথচ যৌনতা ছাড়াও যে পৃথিবীতে আরো জিনিস আছে সেটা ওদের গোবর মাথায় ঢুকবে না। কারণ ওরা দিনরাত কেবল যৌনাঙ্গের স্বপ্ন দেখে।

এই সিনেমা তো মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে বলছে। তাই মোল্লাদের সহ্য হচ্ছে না।

ছেলে-মেয়ে এক বগিতে রাতের ট্রেনে চেপে ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে।

কিসের পড়ালেখা? সব ফ্রি মিক্সিংয়ের ধান্দা! জিহাদিরা তাই নিষিদ্ধ চায়।

বাচ্চা ডেলিভারি করাচ্ছে পুরুষ ডাক্তার। আবার বলছে, “ডাক্তারের মহিলা-পুরুষ নাই!” কী সর্বনাশ!

পর্দা ও সম্মান রক্ষায় ত্যাড়ামি করা বাপ স্ত্রী ও সন্তানের জীবন রক্ষার জন্য নরম হয়ে যাচ্ছে। এভাবে মানুষ যদি বাস্তবতা বুঝতে শুরু করে, তাহলে তো বিপদ! তাই নিষিদ্ধ চায়।

তারপর নায়ক জাদু দেখায়, মদ খায়, সিগারেট খায়। নামাজ পড়ে না। দাঁড়ি নাই, মাথায় টুপি নাই, মুখে সারাক্ষণ আল্লাহ-খোদার নাম নাই। অথচ মানুষ হিসেবে খারাপও না। এই জিনিসটাই সবচেয়ে সন্দেহজনক!

আর তাই আপত্তির মুখে বিভিন্ন জায়গায় চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা ঘিরে সে দেশে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

এই পরিস্থিতিতে এবার বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হলেন জাতীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মানববন্ধন এবং একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্র যেখানে শিশু ধর্ষণ ঠেকাতে পারে না, সেখানে কীভাবে সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ হয়?

এর আগে সংখ্যালঘু নির্যাতন-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন। এবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুললেন।

সোমবার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন,

“পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেই সিনেমাটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হল? তাঁর প্রশ্ন, যে রাষ্ট্র ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না, যে রাষ্ট্র দুর্নীতি, টাকা পাচার ও ব্যাংক লুট বন্ধ করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কীভাবে সিনেমা বন্ধ করে দেয়?”

রুমিন বলেন, “আমরা গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, একের পর এক মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। দক্ষিণপন্থী বা ডানপন্থী উগ্রবাদের উত্থান দেখছি। কিন্তু আমার দেশের মাটি তো এমন ছিল না। এই বাংলাদেশকে কারা মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়? রাষ্ট্র কীভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে পরবর্তী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *