ঢাকা: স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কাকে বলে সেটা এখন সত্যিকারভাবে দেখছে জনগণ। এতদিন শুধু শুনেছে।
সাথী আক্তারের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। তাঁর দুটি শোরুম থেকে বৈদ্যুতিক তার, এসির তার আর ঘরের দামি জিনিস চুরি গেছে।
এর প্রতিবাদ তো মানুষ করবেই। এবং ভোট দেয়ার জন্যও আক্ষেপ করবে। এটাই তো গণতন্ত্র।
তিনি লাইভে এসে ক্ষতির কথা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে হতাশা জানিয়েছেন, আর বলেছেন ভোট দিয়ে তিনি অনুতপ্ত। তাঁর ফেসবুক লাইভের মূল বিষয়ই ছিল চুরি।
ভোটারের আফসোস করা কী অপরাধ? কোন আইনে অপরাধ? এরপরেই তাঁর উপর অ্যাকশন শুরু।
নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসায় একাধিক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন ময়মনসিংহের ভালুকার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার (৩০)।
তাঁর সেই লাইভকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর পর তাকে আটক করে পুলিশ।
যার ক্ষতি হলো তাঁকেই আটক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে পুলিশ এও জানায়, তাঁর লাইভে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা অপরাধমূলক বিষয় পাওয়া যায়নি।
সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার ‘সাথী বিউটি পার্লার’র উদ্যোক্তা। তিনি ওই এলাকার আমজাদ আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন সাথী আক্তার। এ সময় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
লাইভে সাথী আক্তার দাবি করেন, সম্প্রতি তার দুটি শোরুম এবং আশপাশের কয়েকটি দোকানের বিদ্যুৎ ও এসির তার চুরি হয়েছে। তার বাসা থেকেও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা উল্লেখ করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এবং ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেন, আর বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
এই বক্তব্যের পরেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
রবিবার রাত ৮টার দিকে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় সাথী আক্তারের পার্লারে চলে যায় উত্তেজিত জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। মব করে তারা।
পুলিশ বলছে ভাঙচুর ঠেকাতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাহলে যারা ভাঙচুরের পরিস্থিতি তৈরি করল, তাদের কারও নাম নেই কেন? ভুক্তভোগী থানায়, আর দায়ীরা বাইরে! এ কেমন নিরাপত্তাবিধান দেশের?
সোমবার দুপুরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
