ঢাকা: আরেকটা বা আরো অনেক দীপু চন্দ্র দাস হয়তো ঘটবে দেশে! পরিস্থিতি দেখে তাই মনে হচ্ছে। হিন্দুরা এই দেশটায় আর বাঁচার মতো অবস্থায় নেই।

‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা ….(সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু, আপনারে বাইছা নিছি।’

ঠিক এই ভয়াবহ ভাষায় পটুয়াখালীর বাউফলে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের একজন হিন্দু ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর (৫০) বিরুদ্ধে।

এমন কথোপকথনের ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

হিন্দুরা প্রতিদিন আতঙ্কিত, কখন জানি কী ঘটে! এই হুমকি- এই মৃত্যু!

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল।

গোবিন্দ চন্দ্রের বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে। তিনি ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। এবং এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসাও আছে তাঁর।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন গাজীর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে নাকি এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে- বলেই দাবি করেছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল।

তাঁর দাবি অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন তিনি।

এর পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এবং পুড়িয়ে হত্যা করার হুমকি দেয়া হয়।

এদিকে গোবিন্দ বাবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যে অডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে প্রথমে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী।

এরপর তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা…(সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি। এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে?’

এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’

এরপর ফরিদ গাজী আবার বলেন, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’

জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদ গাজী জানতে চান, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’

জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’

ফরিদ গাজী বলেন, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন, নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’ জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’

স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি নিজে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও তাঁর পছন্দের একজন প্রার্থী আছেন। তবে এই বিষয়ে ফরিদ গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এই কথা অভিযোগ করেন তিনি। তবে আগের কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি।

গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *