Oplus_131072

নাটোর: চাঁদাবাজি এখনো চলছে দেশজুড়ে। সরাসরি লাশ ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে চাঁদার টাকা না পেলে। এই হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি।

নাটোরের লালপুরে রাতের অন্ধকারে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে চাঁদাবাজরা চিঠি রেখে গেছে। চিঠিতে একটি বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে, এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে।

যার বাড়িতে এই হুমকি চিঠি রাখা হয়েছে তিনি একজন হিন্দু ব্যক্তি।

শনিবার রাতে লালপুর ইউনিয়নের বাকনাই (পালপাড়া) গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নারায়ণ কুমার পালের বাড়িতে ‘সেভেন স্টার’ নামে একটি গোষ্ঠী টাইপ করা একটি খোলা চিঠি রেখে যায়।

এটি কি আসলেই চাঁদা? নাকি চাঁদার আড়ালে সাম্প্রদায়িক হিংসা? চাঁদাটা হয়তো নাটক! হিন্দুদের টার্গেট করা হয়েছে মেরে ফেলার জন্য। এই দেশে হিন্দুরা সবসময় টার্গেটে থাকেন কট্টরপন্থীদের!

আর চিঠিতে বলাও হয়েছে হিন্দু বাড়িগুলোতে এমন চিঠি দেয়া হয়েছে এই কথা! বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার এখন।

রাত ৯টার দিকে সেই চিঠিটি নারায়ণ কুমার পালের ছেলে অরুণ কুমার পাল দেখতে পান। পরে চিঠির বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জানান অরুণ কুমার পাল।

নারায়ণ কুমার পাল ওই গ্রামের বৈদ্যনাথ পালের ছেলে। তিনি লালপুর বাজারের স্বর্ণের ব্যবসায়ী।

চিঠিতে বলা হয়, ‘সেভেন স্টারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনাদের বাড়িতে একটি চিঠি দিলাম, আশা করি বিকল্প চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, জীবন গেলে যাবে আপনাদের। পরিবারের ভালো মনে (চাইলে) ২০ হাজার টাকা দিয়ে দিবেন। কোনো মানুষকে জানাবেন না, যদি কেউ জানতে পারে তাহলে আপনাদের পরিবারের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে হবে, যদি টাকা দিতে না পারেন সময় খুব খারাপ যাবে। সব হিন্দু পরিবারের জন্য চিঠিটি দেওয়া হলো। এই চিঠি যে পাবেন সবাইকে বলে দিবেন আপনাদের হিন্দু ধর্মের মধ্যে (অনুসারীদের)। আপনাদের পরিবার ভালো রাখার জন্য সেভেন স্টার আপনাদের সবসময় পাশে থাকবে।’

ভুক্তভোগী নারায়ণ কুমার পাল বলেন, ‘গতকাল রাতে কে বা কারা আমার বাড়ির বারান্দায় কম্পিউটার কম্পোজ করা একটি খোলা চিঠি রেখে যায়। রাতে আমার ছেলে অরুণ কুমার পাল বারান্দায় গেলে সে প্রথমে চিঠিটি দেখতে পায়। পরে চিঠির বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জানায়। পুলিশকে খবর দিলে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিঠিটি নিয়ে যায়।’

নারায়ণ কুমার পাল আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। লালপুর থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন।

লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘নারায়ণ কুমার পাল স্বর্ণের ব্যবসা করেন। সকালে নারায়ণ কুমার পাল আমাকে ফোন করে জানান, তাঁর বাড়িতে রাতের অন্ধকারে চাঁদা চেয়ে একটি খোলা চিঠি রেখে গেছে। এ বিষয়ে তাঁদেরকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছি। আগে কখনো লালপুর ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটেনি, এই প্রথম।’

লালপুর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ‘ঘটনাটি আজ সকাল ১০টার দিকে শুনেছি। আগে কখনো এমন ঘটনা লালপুরে ঘটেনি।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *