ঢাকা: একটা অপরাধ ঢাকতে যদি আরেকটা অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওখানে এটা হচ্ছে, এখানে ওটা হচ্ছে – সেটা দেখেন না? শুধু এটা দেখেন কেন?

এই ধরনের কথা বলে যারা ঢাকনা দিয়ে চায় দোষ তাদের। আমাদের না। এখন দেখা যাচ্ছে অনেকেই বলছে, একটা চুমুই তো দিয়েছে, এদিকে যে চাঁদাবাজি, মববাজি হচ্ছে সেগুলো দেখেন না কেন?

এটা আসলে লম্পটরা লম্পটদের চরিত্র ঢাকার জন্য বলে।

অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষক লম্পট। সবাই নয়, কিন্তু অধিকাংশ। একের পর এক প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অঘটন ঘটছে। আর অপরাধী মাদ্রাসা শিক্ষক। এরা ধর্মের নামে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ করে, জন্মনিরোধক পিল খাইয়ে রাখে, ছেলে শিশুদেরকেও বলাৎকার করে!

কিন্তু এই কথা স্বীকার করতে রাজাকার, লম্পটদের জাত যায়।

এখন যেই একটা চড় খেয়েছে ওমনি সাপের গর্তে কার্বলিক পড়ার মতো এগুলো বেরিয়ে এসে নানান আইন দেখাচ্ছে।

এইসব ইস্যুতে সাধারণত অন্যান্য হুজুর বেকায়দায় পড়ে চুপ থাকে। শুধু তাহেরি বাদে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মডারেট ইসলামধারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা পীর মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি।

মসজিদের ইমাম মাওলানা রঈস উদ্দিনকে হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, এক থাপ্পড়ের ঘটনার পর দেশে আইন আছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়—এমন বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের আগের ঘটনায় ভূমিকা কোথায় ছিল?

ফেসবুক পোস্টে তাহেরি লেখেন, “এক থাপ্পর মারার পর পরই মডারেট ইসলামধারীরা বলতে শুরু করলো দেশে আইন আছে, আইন হাতে তুলে নেওয়া উচিৎ হয় নি।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মসজিদের ইমাম মাওলানা রঈস উদ্দিনকে অন্যায়ভাবে ‘মব ভায়োলেন্সের’ মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করার সময় মডারেট ইসলামধারীদের নীতিবাক্য কোথায় ছিল?

পোস্টে উন্মত্ত জনতার আচরণ প্রসঙ্গে তাহেরি শানিয়ে লেখেন, “উন্মত্ত জনতার সুনির্দিষ্ট মস্তিষ্ক কিংবা বিবেক থাকে না।”

তাহেরির এই বক্তব্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, গণপিটুনি ও বিভিন্ন ঘটনায় প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে।

তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা বা সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড থাকা উচিত নয়; বরং প্রতিটি ঘটনায় ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পক্ষে সমানভাবে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিনকে ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল গাজীপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে ধর্ষণ বা অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) তৈরি করে প্রায় ৪ ঘণ্টা নির্যাতন করা হয় এবং পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তিনি গাজীপুর জেলা কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ এপ্রিল ভোরে রাতে মারা যান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *