খুলনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা আগমনকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন দেওয়ালে আঁকা হয়েছিল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি।

তবে সেই দেওয়ালচিত্রের মধ্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতির মুখ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে রবীন্দ্র বিদ্বেষীরা। এবং সাঁটানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথবিরোধী পোস্টার।

কোনো মহান স্রষ্টার মুখচ্ছবি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু তাঁর সৃষ্টির আলো অন্ধকার করে দেওয়া যায় না।

সংস্কৃতির বুকে কালি লেপে সাময়িকভাবে একটি প্রতিকৃতি আড়াল করা সম্ভব, কিন্তু একটি জাতির মনন, চেতনা ও আত্মপরিচয়কে মুছে ফেলা অসম্ভব।

বিশ্বকবির ছবিতে কালি লেপন করা না, এগুলো নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনা।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনা নিছক একটি দেয়ালচিত্র বিকৃত করার ঘটনা নয়; এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতীয় পরিচয়ের মৌলিক প্রশ্নগুলো নতুন করে সামনে এসেছে।

রবীন্দ্র বিদ্বেষীরা মনে করে রবীন্দ্রনাথ হিন্দু, রবীন্দ্রনাথ ভারতের। তাই তাঁকে অসম্মান করতে গিয়ে নিজের অপমান করে বসে থাকে, এদিকে হুঁশ থাকে না।

বলে রাখি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম ধর্মের ছিলেন। সূর্য উপাসক।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নগরীর শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন রেলস্টেশনের দেওয়ালে কবিগুরুর গ্রাফিতি বিকৃতির চিত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেওয়ালে আঁকা হয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের গ্রাফিতি।

এরই ধারাবাহিকতায় শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন রেলস্টেশনের দেওয়ালে স্থান পায় দেশের বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তির প্রতিকৃতি।

এসব ছবির মধ্যে ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও। তবে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান, কে বা কারা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতির মুখমণ্ডল কালো কালি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। পাশাপাশি দেওয়ালে সাঁটানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথবিরোধী কয়েকটি পোস্টার।

মুক্তচিন্তা, শিল্পকলা এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রধানতম স্তম্ভের ওপর বিদ্বেষমূলক আক্রমণে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খুলনার সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিক।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক যে উদ্দেশ্যেই এটি করা হোক না কেন- ‘সর্বজনশ্রদ্ধেয় কবিকে এভাবে অপমান করা অত্যন্ত আপত্তিকর ও নিন্দনীয় অপরাধ’।

খুলনা সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *