ঢাকা: বিশ্বজুড়ে ‘মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ পালিত হচ্ছে, আর ঠিক তখনই ঢাকায় বিমানবন্দরে বিদেশযাত্রায় বাধার শিকার হলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিঠু।

কী করেছেন তিনি? হত্যা? মব? ছিনতাই? ব্যাংক ডাকাতি? তারপরেও কেন বাধা এলো?

এইতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বললেন, সাংবাদিক, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা, আগের সরকারের মতো আচরণ তারা করবে না এও বললেন! তারপরেও কেন একই আচরণ? প্রশ্নও তো কেউ করতে পারে না, করলেই ফ্যাসিবাদ নাকি যেন বলে!

চীনে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক ও নিউজনেক্সট সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিঠুকে।

রবিবার (৩মে) একটি গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তির কারণে তাঁকে বিদেশযাত্রা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে ফিরিয়ে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।

নজরুল ইসলাম মিঠু জার্মানির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ডিপিএ’র ঢাকা প্রতিনিধি। এছাড়াও তিনি  বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘ওভারসিজ করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ’ (ওকাব)-এর বর্তমান সভাপতি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি।

নজরুল ইসলাম জানান, রবিবার দুপুরে বিমানবন্দরে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর নাম ধরে হঠাৎ ডাকতে শুরু করেন।

এরপর তাঁকে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বরত বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি)-এর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর পেশা এবং পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়।

সে সময় গোয়েন্দা সংস্থার চারজন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা তাঁকে পুরো ঘিরে ধরেন যেমন ভাবে আসামিকে ধরা হয় এবং তিনি ‘ওকাব’-এর সভাপতি কি না বা তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ না থাকার কথা স্বীকার করলেও ‘এজেন্সি’র ক্লিয়ারেন্স নেই বলে তাঁকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখেন।

এক ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর ফ্লাইটের সময় হয়ে এলে সংশ্লিষ্ট এসপি তাঁকে জানান, আজ তাঁকে বিদেশ যেতে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বাধা দেওয়ার কারণ কী? এটি জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন সংস্থা থেকে আসা নির্দেশনা তারা শুধু পালন করছেন। পরে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে দিয়ে তার মালামাল (অফলোড) নামিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৩-এর পরিপন্থী হিসেবে মন্তব্য করেছেন নজরুল ইসলাম। ওই অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে, প্রত্যেক নাগরিকের নিজ দেশ ত্যাগ করার এবং ফের নিজের দেশে ফেরার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *