ঢাকা: প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী কামরুদ্দীন আবসার আর নেই।

শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

কামরুদ্দীন আবসারকে এই প্রজন্মের তরুণরা চেনে না, জানে না। এটা শুধু তাদের সীমাবদ্ধতা নয়। বিদ্যমান কর্পোরেট পুঁজির ভোগবাদি ও আত্মকেন্দ্রিক দুনিয়ায় আবসারের কন্ঠ , গাণ হারিয়ে ফেলেছি আমরা!

কেউ কি নেই যে বা যারা আবসারের
গান মেলে ধরতে পারেন এ প্রজন্মের কাছে?

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কামরুদ্দীন আবসার দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি ২০১১ সালে স্ট্রোক করেন। এরপর তিনি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

জানা গিয়েছে, শিল্পীকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগামিকাল সোমবার সকালে কামরুদ্দীন আবসারের মরদেহ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব চলবে। এদিন জোহরের নামাজ পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে কামরুদ্দীন আবসারের জানাজা হবে।

শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ মুন্সি, রইসউদ্দীন এবং শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদের কাছে তিনি সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালে আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যানিকেতনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীকালে সেগুনবাগিচা মিউজিক কলেজে অধ্যয়ন করেন।

শিল্পীজীবনের প্রারম্ভে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)-এ সংগীত ও পরিচালনা বিভাগের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।

তবে কামরুদ্দীন আবসারের প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে গণসংগীতের ভুবনে। তিনি বিশ্বাস করতেন গান মানুষের সংগ্রামের ভাষা, প্রতিবাদের ভাষা, ভালোবাসা ও মানবতার ভাষাও।

তাঁর কণ্ঠে ‘চল রে ভাই, উজান বেয়ে যাই’, ‘আমি কোনো ভালোবাসার গল্প জানি না, যেটুকু জেনেছি সবটুকুই যুদ্ধের’ কিংবা ‘তোমরা যদি বলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, আমি মানবো না’ শুধু গান হয়ে ওঠেনি, হয়ে উঠেছিল একটি প্রজন্মের সংগ্রামী চেতনার অংশ।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম, পুত্র আদনান মুকিত দীপ্র, অসংখ্য সহকর্মী, সহযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *