ঢাকা: ‘ছিকর’ যারা খেয়েছেন তাঁরা জানবেন কেমন স্বাদ। বেশিরভাগ মানুষই বলেন, তাদের কাছে খুব ভালো‌ লাগে খেতে। কেউ চারকোনা একটু লম্বা করে বানান, কেউ আবার গোল করে।

ছিকর হল এক ধরনের মাটির বিস্কুট। এখন অনলাইনেও পাওয়া যায় এই জনপ্রিয় ছিকর।

অতীতে এই মাটির বিস্কুট খেয়েই নিম্নবিত্তরা ক্ষুধার জ্বালা মেটাতো। যদিও এখন এই বিস্কুটের কদর কমেছে অনেক।

তবে আফ্রিকার বিভিন্ন দরিদ্র দেশের মানুষেরা আজও জীবন বাঁচাতে মাটির বিস্কুটের উপরই নির্ভরশীল।

১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সালের দিকে ছিকর হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামে নিম্নবিত্ত সমাজে প্রচলিত এক বিশেষ খাবার ছিল।

ছিকর শব্দটি এসেছে ফারসি থেকে। ছিয়া অর্থ কালো, আর কর মানে মাটি। ছিয়াকর শব্দটিই পরে ছিকর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ভাবছেন হয়তো মাটি কিভাবে খায়? তবে ঐ যে বললাম যারা খায় তারা জানে এর স্বাদ। তাঁদের কাছে ভালোই লাগে।

অনেক সময় মহিলারা গর্ভাবস্থায় খুব ছিকর খান। সে সময় তো খুব কুড়মুড়ে জিনিস খেতে ইচ্ছা করে- তাঁরা ছিকর খান।

একজন মা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩কেজির মত খেয়েছি পুরো প্রেগন্যান্সি জার্নিতে। অনেকেই খান এটা। তখন অমৃত লেগেছিল।আগেকার মা চাচিরা নাকি খেতেন’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আমোদাবাদ গ্রামের কয়েকটি নিম্নআয়ের পরিবার প্রায় তিন দশক ধরে মাটির তৈরি এই ‘ছিকর’ বিক্রি করে সংসার চালান।

আমোদাবাদ গ্রামে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে পলিথিনের ওপর সারি সারি করে রোদে শুকানো হচ্ছে লম্বা, চারকোনা আকৃতির মাটির ছিকর।

এঁটেল মাটি মেখে খামির তৈরি করা হয়, তারপর সেই খামির বটি দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে চুলার মৃদু আঁচে মাটির হাঁড়িতে পোড়ানো হয় ছিকর। আগুনে পুড়ে এগুলোর রং কালচে হয়ে যায়।

এগুলো অনেক মহিলার সংসার চালানোর অবলম্বন। অনেকেই সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ কেজি ছিকর তৈরি করেন। প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দামে বিক্রি হয়। আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে ছিকর কিনে নিয়ে যান।

লাকী বেগম জানান, শাশুড়িকে সহযোগিতা করতে করতেই তিনি নিজে ছিকর তৈরি শিখেছেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এ কাজ করছেন। সংসারের অন্যান্য কাজের ফাঁকে সপ্তাহে প্রায় ৪০ কেজি ছিকর তৈরি করা সম্ভব হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *