ঢাকা: টিকা থাকলে কিট নেই, কিট থাকলে পরীক্ষা করার মানুষ নেই- দেশটা হয়েছে জগাখিচুড়ি! স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে চলছে হামাগুড়ি। কিট না থাকলে হাম পরীক্ষাও হবে না, ফলে মৃত্যু আর আক্রান্তের হিসেব আর লুকানোর দরকার হবে না। সবাই ফ্রি। সরকার ফ্রি, প্রশাসন ফ্রি- কেবল জনগণ পড়েছে ফাঁসি জালের ভিতর।
এখন পরীক্ষাগারে হাম পরীক্ষার কিট আছে মাত্র সাতটি। এসব কিট দিয়ে সর্বোচ্চ ৬৩০টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।
বর্তমান হারে নমুনা পরীক্ষা করলে ছয় দিনের মধ্যে এগুলো শেষ হয়ে যাবে।
গত এপ্রিল মাস থেকেই পরীক্ষাগারে কিটের সংকট দেখা দিয়েছিলো।
কিন্তু এই নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। শিশু মরছে মরুক, আক্রান্ত হচ্ছে হোক! দেশে সিনেমা চললেই হলো।
জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগের ঘাটতির কারণে এখন পর্যন্ত নতুন জোগান তৈরি হয়নি। নতুন কিট না এলে ১১ মের পর দেশে হামের নমুনা পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
জনস্বাস্থ্যে অর্জিত অগ্রগতি কত দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এই ট্র্যাজেডি তারই উদাহরণ।
উল্লেখযোগ্য যে, দেশে হামের পরীক্ষা হয় শুধু রাজধানীর মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে (ল্যাবরেটরি)। আর কোথাও এই ব্যবস্থা নেই।
সছি পরীক্ষাগারেই হাম পরীক্ষার কিট (সরঞ্জাম) আছে মাত্র সাতটি। সাতটি যেন সাত জন্ম চলবে!
পরীক্ষার কিট না থাকলে পরিস্থিতি কী হবে চিন্তা করেছে সরকার একবারও? পরিস্থিতি দ্রুত সংকটময় রূপ নেবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটিকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত একটি সমন্বিত চিকিৎসা প্রটোকল প্রস্তুত করা যেত। সেটা হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও মাঠ পর্যায়ে পাঠানো যেত।
এর পাশাপাশি ব্যাপক হারে হামের পরীক্ষা বাড়িয়ে রোগী শনাক্ত করে তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যেত।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোমিনুর রহমান বলেন, কিট সংকটের কারণে নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে। এক মাস আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে কিটের চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও তা এখনও পাওয়া যায়নি। আশা করছি, ১৫ মে নাগাদ কিট পাওয়া যাবে।
