ঢাকা: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘোষণা করেছেন, তাঁর সরকার এমন একটি আইন প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, যেখানে স্কুলে বোরখা ও নিকাব পরে ক্লাস করা যাবে না। এটি খুব পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে।

অবশ্য আমাদের দেশেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বোরখা, নিকাব নিয়ে বহু আলোচনা হয়। কারণ অধিকাংশ অপরাধ বোরখার আড়ালে হয়। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বোরখা পরে আরামে খুনী, অপরাধীরা সামনে দিয়ে দিয়ে হেঁটে যায় আমরা বলতেও পারি না। পুরুষ অপরাধীরা অনেক সময় বোরখা পরে অপরাধ করে।

তাই বিষয়টা চর্চার অবশ্যই।

পোশাকের ভেতরের মানুষটি কে, সেটাই যদি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে স্কুলে তার পরিচয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে কীভাবে? নিরাপত্তার বিষয়টা জড়িয়ে আছে।

মেলোনি বিশেষভাবে বোরকা এবং নিকাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেন। তবে মুসলিম নারীর পরা মাথার স্কার্ফ হিজাব নিয়ে কোনো কথা বলেননি মেলোনি।

সরকারে অনুমোদন পাওয়ার পর এই প্রস্তাবকে আইনে পরিণত করতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে।

হিজাব নিয়ে বলেননি কারণ হিজাব পরলে মানুষের চেহারা দেখা যায়। নিকাব পরলে শুধু চোখ দেখা যায়। আর বোরকা পরলে সেটুকুও জালের আড়ালে থাকে। ইতালির বক্তব্য খুব সহজ।

ইতালি কোনো মুসলিম দেশ নয়।মুসলমানদের ধর্ম পালনের অধিকার সেখানে অবশ্যই আছে। কিন্তু মুসলমানদের প্রতিটি সামাজিক ও ধর্মীয় দাবি মেনে নিতে ইতালি বাধ্য নয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরখা এবং নিকাবের মুখ ঢাকা পোশাক পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে ইটালি সরকার। এ কথা

বোরখা, নিকাবে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।

সেই সঙ্গে রবিবার শাসকদল ‘ব্রাদার্স অব ইটালি’র (এফডিআই)-র সভায় তাঁর ঘোষণা, ইটালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বিদেশি পড়ুয়ার সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমাও বেঁধে দেওয়া হবে।

বিগত কয়েক বছরে ইউরোপে ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, বুলগেরিয়া, বেলজিয়াম, লাটভিয়া, সুইৎজ়ারল্যান্ডের মতো দেশ বোরখা-সহ মুখঢাকা পোশাক পরা নিয়ে বিধিনিষেধ জারি করেছে। এ বার সেই পথে হাঁটতে চলেছে ইটালি।

জুলাই মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং ইটালি সেনার অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রোবার্তো ভান্নাচ্চির গড়া দল ন্যাশনাল ফিউচার (এনএফ) দেশ জুড়ে বোরখা নিষিদ্ধের দাবিতে প্রচার শুরু করেছে। উগ্র জাতীয়তাবাদীদের সেই চাপই মেলোনির বোরখা-বিধিনিষেধ সংক্রান্ত ঘোষণার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ এতে ভীষণ আহত হয়েছেন। তাঁদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, ইতালি বাংলাদেশের কোনো উপজেলা এবং জর্জিয়া মেলোনি স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার শপথ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন।

ভণ্ডামিটা এত পরিষ্কার যে এগুলো আলাদা করে খুঁজতেও হয় না। আসলে সচেতনতা সবচেয়ে আগে জরুরি। সচেতন না হলে দেশে দুষ্কর্ম বাড়বে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *