কক্সবাজার: নয়ন সাধুকে নির্মমভাবে যারা হত্যা করলো তাদের কী আদৌ শাস্তি হবে? খুঁজে বের করা হবে? নাকি এভাবেই ঘটতে থাকবে সনাতনী হত্যা?
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে নিখোঁজের তিনদিন পর হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় মন্দিরের সেবায়েতকারি নয়ন সাধুর অর্ধগলিত মৃতদেহ পাহাড়ে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ২২ এপ্রিল দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড় থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত উদ্ধার নয়ন দাশ (৪০) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকার গোপাল দাশের ছেলে। তিনি খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব কালী মন্দিরের সেবায়েতকারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো।
ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বিবৃতি প্রকাশ করেছে তারা।

জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলা-এর খুরুশকুল ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রীশ্রী সার্বজনীন শিব কালী মন্দির থেকে সেবায়েত নয়ন সাধুকে ডেকে নিয়ে যায় দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তার স্ত্রী অঞ্জনা শীল বিষয়টি থানায় জানান।
এর তিন দিন পর, ২২ এপ্রিল মন্দির থেকে কিছু দূরে গহীন বনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়ন সাধুর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায়।
ঘটনার পর ২৪ এপ্রিল ঐক্য পরিষদের কক্সবাজার জেলা নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপঙ্কর বড়ুয়া পিন্টু, সহ-সভাপতি রাজবিহারী দাশ, যুগ্ম সম্পাদক ডা. পরিমল কান্তি দাশ, স্বপন গুহ, চঞ্চল দাশগুপ্ত এবং আদিবাসী নেতা মংখোলা।
তারা হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও ঢাকা-তে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার ব্যানারে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
