ঢাকা: মানুষ কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রাখে, সেই টাকা বিপদের সময় পাচ্ছে না, কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা কাস্টমারের কোটি কোটি টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে যাচ্ছে!
পচনশীল দেশটায় মানুষ বসবাস করবে কীভাবে? মানুষের মৌলিক চাহিদাই তো পূর্ণ হয় না, বাকি তো বাদই দিলাম।
‘আমার মা মারা যাচ্ছে, আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না।’— কারণ তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারছেন না।
দিশাহারা হয়ে বলতে বলতে ফোঁপাতে থাকেন এবং হতাশ হয়ে চেয়ারে বসে পড়েন মো. আলাউদ্দিন।
দেখাযায় কার্যালয়ে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমানতকারীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সান্ত্বনা তাঁর মা চিকিৎসা পেলে মিলবে। মাথায় হাত দিলে না।
২৪ আগষ্ট, সোমবার নগরের হালিশহর এলাকায় অবস্থিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের জোনাল অফিসে এই ঘটনা ঘটে।
আমানতকারী মো. আলাউদ্দিন ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম’ কমিটির অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে কয়েক দিন আগে মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়েছে। ব্যাংকে নিজের কষ্টার্জিত আমানত জমা থাকা সত্ত্বেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে টাকা তুলতে পারছেন না তিনি, যার ফলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না মায়ের।
এরকম অবস্থা একা তাঁর নয়। বহু গ্রাহকের। চট্টগ্রামের কেরানীহাট, মহেশখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা সহ বিভিন্ন দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ভুক্তভোগী আমানতকারী এই জোনাল অফিসে জড়ো হন। কারণ তাঁরা কেউ টাকা পাচ্ছেন না।
সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, গত ১০ থেকে ১৫ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাঁরা সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির চিত্র দেখেছেন।
জরুরি চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন খরচের জন্য নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা।
বিভিন্ন শাখায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের চরম অসহযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
সংগঠনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, “আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের টাকা তুলতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
