ময়মনসিংহ: ড্রামে ভাসে, খালে ভাসে, নদী নালায় ভাসে, জঙ্গলে ঝোপঝাড়ে পচে পড়ে থাকে ক্ষতবিক্ষত,‌কোপানো হিন্দুর দেহ! হায়রে আমার দেশ! কোন জন্মের পাপে মনে হয় এই দেশে কেউ হিন্দু হয়ে জন্মায়। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায় তো এখন যার কপালকেই দিতে হবে, তাছাড় আর কী উপায়?

ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি সুইচগেইট এলাকা থেকে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহ সহ ড্রামটি ভাসছিলো।

যে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী, ময়মনসিংহ ত্রিশাল উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি সনাতন ধর্মের লোক। হিন্দু নিধন প্রকল্পের আরো এক শিকার নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর।

নিরঞ্জনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তাঁকে কুপিয়ে খুন করেছে হিন্দু বিদ্বেষী, মুসলমান।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)।
তিনি জেলার ত্রিশাল উপজেলার রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে।

বাড়ি ত্রিশাল হলেও তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নগরীর স্টেডিয়াম এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং জুয়েলারি কারিগরের কাজ করতেন।

এর আগে বুধবার সকালে সদরের বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইসগেইটের সামনের ড্রামের ভিতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি আরও বলেন, নিহতের মাথায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে হত্যার পর মরদেহ ড্রামে ভরে ফেলে রাখা হয়েছে।

কিন্তু এই ঘটনায় একজনকেও গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর কী লাশ পুড়ে যাবে, সব শেষ। যেভাবে বাকি সনাতনীরা শেষ।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন:

“যতদূর শুনেছি লোকটি ত্রিশালের বাসিন্দা এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আশ্চর্য , সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা? সব হিন্দুর জমি দখল করে নেবে? তাদের টাকা পয়সা লুট করে নেবে? বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে? আমি জানিনা কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জিহাদিস্তানে। কোনও সুস্থ ও সভ্য মানুষ তো ওই হিংস্র, বর্বর ও অসভ্য মুসলমানের দেশে বাস করতে পারবে না। সম্ভব নয়”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *