ঢাকা: আট বছরের রামিসা। এই বয়সে মায়ের আঁচলও ছাড়েনা বাচ্চারা। সেই শিশুটাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে।

তাকে পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করা হয়।ধর্ষকদম্পতির আবার সন্তানও আছে।

বাথরুমের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হয়।

রামিসাকে হত্যার পর দেহ টুকরো করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা শুরু হয়। এ সময় রামিসার পরিবার ও স্থানীয়রা বাইরে থেকে বাসার দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে। তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সোহেল ও তার সঙ্গী জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়।

বাসার বাইরে হৈ-হুল্লোরের শব্দে সোহেলের স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে ওঠে। স্বামী তখন ছিটকিনি খুলে দেওয়ায় কক্ষের বাইরে এসে সে রামিসার গলা কাটা দেহ দেখতে পায়।

এ সময় স্থানীয়রা বাসার দরজায় বারবার আঘাত করলেও স্বপ্না তাদের ঢুকতে না দিয়ে স্বামী ও তার সঙ্গীকে পালাতে সাহায্য করে।

একজন নারী, সন্তানের জননী হয়েও ক্রিমিনালদের পালাতে দিলো সেটাই অবাক করা বিষয়!

মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।

এই ঘটনার নৃশংসতা এত ভয়াবহ যে ছেলে মেয়ে যেকোনো বাচ্চাকে নিয়েই এখন ভয়ে থাকতে হবে।

পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় শোক, ক্ষোভ আর বিচার দাবিতে সরব হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন।

ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিজের ফেসবুক পেজে রামিসার একটি স্কেচ শেয়ার করে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে, ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো রামিসার জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আর দোষীদের এমন শাস্তি হোক যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’

সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘রামিসার মতো কত নিষ্পাপ প্রাণ হারিয়ে গেছে, সেই হিসেব হয়তো কেউ রাখবে না। কিন্তু এই নৃশংসতার শেষ চাই। বিচারহীনতার প্রতিটি ঘটনা অপরাধীদের সাহস বাড়ায়। এই ঘৃণিত অন্যায়ের দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে, আনন্দে।’

আরেক সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান লিখেছেন, ‘একটি শিশুর কান্না শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি। যারা নিষ্পাপ শৈশবকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংসতায় ধ্বংস করে, তারা মানবতার শত্রু।
ন্যায়বিচার বিলম্বিত মানেই অন্যায়ের সাহস বাড়ানো। রামিসার জন্য দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসও জানিয়েছেন নিজের মর্মবেদনার কথা। এক কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

লিটন লিখেছেন, ‘একজন কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে রামিসার খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত ও বিচলিত করেছে। কোনো সভ্য সমাজে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের জন্য এমন একটি নিরাপদ পৃথিবী দরকার, যেখানে তারা ভয় ছাড়া বড় হতে পারবে।’

‘যে কোনো অন্যায়ের বিচার হওয়া উচিত, আর রামিসার ক্ষেত্রে সেই বিচার হতে হবে দ্রুত। আমরা যখন রামিসার বিচারের দাবিতে এক হচ্ছি, তখন এটাও জোর দিয়ে বলতে চাই, এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আমরা আর কখনো এমন ট্র্যাজেডি দেখতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।

অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সকালে খবরটি শুনে আমি পুরোপুরি হতবাক। ছোট্ট রামিসা নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য ছিল… এমন নিষ্ঠুরতার নয়।

এই নিষ্পাপ শিশুর জন্য দ্রুত ও সঠিক বিচার দাবি করছি। কোনো পরিবার যেন কখনো এমন যন্ত্রণা না পায়। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবি লিখেছে, ‘ছোট্ট রামিসার বিরুদ্ধে সংঘটিত এই জঘন্য অপরাধে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। রামিসা এবং এ ধরনের নৃশংসতার সব শিকারের জন্য আমাদের হৃদয় কাঁদছে। আমরা সবাই আজ ন্যায়বিচারের দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *