ঢাকা: একসময় কত প্রতিপত্তি, রূপ, যৌবন থাকে মানুষের – অথচ সময়ে মানুষ কী হয়ে যায়! ভাবলেই কষ্ট হয়।
এক সময় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন অভিনেতা সমু চৌধুরী। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই শিল্পীর বর্তমান চেহারা, শরীর দেখলে অনেক কষ্ট হয়।
তাঁর জীবনযাপনের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই নিয়ে অনেকেই কথা বলছেন,আক্ষেপ করছেন।
দেখলে প্রশ্ন জাগে- এই সমু কি সেই জনপ্রিয় অভিনেতা সমু, সমু চৌধুরীর ভালোভাবে চিকিৎসার দরকার বলে অনেকে মনে করেন।
হাড় জিরজিরে হয়ে গেছেন। গালের চাপা ভেঙে গেছে। শরীর ভেঙে গেছে একেবারেই।
জানা গেছে সমু চৌধুরীর পরিবারে একমাত্র মা ছাড়া কেউ বেঁচে নেই, তার ভাই বোন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। চির কুমার সমু মায়ের দিকে তাকিয়ে বিয়ে করেননি।
আবার বিয়ে করলেই মানুষ সুখী হয়- তা বলছি না।
সমু চৌধুরী ভালো কবিতা লিখতে পারতেন পড়তে পারতেন, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কেউ ডাক্তারের কাছে নেবে ওষুধ সেবন করাবে এমন কেউ নেই, যার জন্য তার এই পরিণতি।
আজ তিনি পথে প্রান্তরে মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মানুষের কাছে লাঞ্ছিত বঞ্চিত হচ্ছেন, এটা শিল্পী সমাজের জন্য লজ্জার ব্যাপার, তাঁকে দেখার মত কেউ নেই।
একসময় সালমান শাহ, ওমর সানি, বাপ্পারাজ, ফেরদৌস রিয়াজদের মত তাদের সাথে সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অসংখ্য টিভি নাটক করেছেন। সেই সমু চৌধুরী আজ অর্থাভাবে মানবতার জীবন যাপন করছেন।
যাই হোক, এমন পরিস্থিতিতে অভিনেতা সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়িয়ে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। তাঁর দাবি, সমু চৌধুরী বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত।
সম্প্রতি ফেসবুকে সমু চৌধুরীর একটি ছবি প্রকাশ করে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন মনিরা মিঠু।
সেখানে এই অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিঃসঙ্গতা ও অসুস্থতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সমু চৌধুরীকে ‘পাগল’ কিংবা ‘নেশাখোর’ বলে আখ্যা দেওয়ার বিরোধিতা করেন।
পোস্টে মনিরা মিঠু লেখেন, ‘আহারে শিল্পী, কত একা আপনি। অভিনেতা সমু চৌধুরী লোকজনের কাছে আজ পাগল, নেশাখোর। এই গুণী মানুষটি আসলে বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের পেশেন্ট। এই অসুখে যে উনি আক্রান্ত, এই বিষয়ে একদম পরিষ্কার ধারণা আমার আছে।’
সমু চৌধুরীর জীবনে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মনিরা মিঠু জানান, তার আপন ভাই-বোনসহ পরিবারের প্রায় পাঁচ-ছয়জন সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বলে তিনি জেনেছেন। বর্তমানে তার বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন।
ওই দুর্ঘটনার আগপর্যন্ত সমু চৌধুরী অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক ঘটনাটির পর দীর্ঘ সময়ের জন্য তিনি আড়ালে চলে যান।
মনিরা মিঠুর ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েক বছর পর আবার অভিনয়ে ফিরলেও সমু চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ে করেননি। মায়ের নিঃসঙ্গতার কথা ভেবেই তিনি নিজের সংসার না গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান এই অভিনেত্রী।
তার কথায়, ‘সমু ভাইয়ের চিন্তা-চেতনায় ভর করে- আমি যদি বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি, আমার মা নিঃসঙ্গ হয়ে যাবেন। উনি একাকিত্বকেই বেছে নিলেন। না হলো উনার সংসার, না হলো উনার সন্তান।’
মনিরা মিঠু প্রশ্ন তুলেছেন, এই অভিনেতার পাশে দাঁড়ানোর মতো কি কেউ নেই? তার মতে, এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যিনি সমু চৌধুরীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণে সহায়তা করবেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।
