ঢাকা: দুর্গাপূজা দেখতে দেখতে চলে এলো। একটা বছর কত ঘটনার সাক্ষী থাকে সনাতনীরা। বেশির ভাগ ভাঙনের ঘটনা তাদের জীবনে। কারণ এই দেশে তাদের জন্য কিছু গড়ে না, কেবল ভাঙে।
আগামি ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে । শিল্পীরা ভীষণ ব্যস্ত এখন প্রতিমায় শেষ আঁচড়টা দিতে।
সারা দেশের মতো সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৫৫ টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
তাই, সারাদেশের মতো কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সারা বছরের অপেক্ষা শেষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, চারদিকে সাজ-সাজ রব।
ধরায় আসছেন দেবী, সকলের মা।
১০ অক্টোবর মহালয়া দিয়ে শুরু হয়েছে, ১৬ অক্টোবর মহা ষষ্ঠী দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ঘোড়ায় চড়ে দেবীর আগমন, ১৯ অক্টোবর কুমারী পূজা, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা নৌকায় গমনের মাধ্যমে শারদীয়া উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শিল্পীদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। কাজ যে শেষ করতেই হবে।
মাটির দলায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার রূপ, তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছে অসুরবিনাশিনীর মুখ। কোথাও চলছে প্রতিমার অবয়ব গড়া, কোথাও শেষ হচ্ছে রং ও সাজসজ্জার কাজ।
এদিকে, শরতের আগমনী আবহে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায়ও এখন মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে।
প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মণ্ডপ সাজানো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত আয়োজকেরাও।
শুধু তো দুর্গা নয়, ভগবান শিব, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, মহিষাসুর ও তাদের বাহনের প্রতিমার কাজও চলছে।
বছরের এই সময়টিতে মৃৎশিল্পীদের হাতের নিপুণতায় মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নেয় পূজার আরাধ্য প্রতিমায়।
মৃৎশিল্পী বাপ্পা বিশ্বাস ও বাবু পাল জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তারা বেশ কিছু প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছেন। তারপরও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাঁরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
