কুষ্টিয়া: ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজের আস্তানায় পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে, কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এই হত্যা ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার রাত ১১টার দিকে নিহত শামীম রেজার ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ সময় আরও দুই ভাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে ওই থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রী রাজীব দফাদারকে।”
হামলার ঘটনায় আরও তিন ভক্ত মহন আলী, জামিরুন, জুবায়ের গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেলো, রবিবার দুপুরে পীরের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাদ আছর তাকে স্থানীয় দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এইসব ঘটনা এখন খুব সহজ হয়ে গেছে। নতুন বছরে যে কেউ একটু মনের ভার হাল্কা করবে এইদেশে বোধহয় তা সম্ভব নয়।
ইউনূসের সময় এক বৃদ্ধ ফকিরকে কিছু মোল্লা ধরে জোর করে চুল-দাড়ি কেটে দিয়েছিল। অসহায় বৃদ্ধ কাঁপতে কাঁপতে বলেছিলেন, “আল্লাহ, তুই দেহিস।” কথাটা এখনো কানে বাজে।
তারা কোনো মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে মব করে হত্যা করা হলো। শোনা যাচ্ছে , শুধু তাঁর মুখেই নাকি ১৮টা কোপ।
পীরের কথা কাটছাঁট করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য কাটছাঁট করে তাঁকে ধর্ম অবমাননাকারী বানানো হয়েছে।
পীরের পরিবার মামলা না করার কথা জানিয়েছিল। ঘটনার দুদিন পর সোমবার দুপুরে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, “দেখুন বিদ্যমান বাস্তবতায় আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শামীম হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা করব না।”
হয়তো আতঙ্কে তাঁরা জানিয়েছিলেন এমনটা। আরো হামলা হতে পারে মামলা করলে এমন ভয় করছিলেন হয়তো।
তবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ফজলুর রহমান বলেন, “আমরা পারিবারিকভাবে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু রাতে পুলিশ এসে থানায় নিয়ে গিয়ে আমাদের দিয়ে মামলা করিয়েছে।”
