ঠাকুরগাঁও: এগুলো মৌলবাদী মুসলমানদের অপকৌশল এখন সবাই জানে। জানলেও কিছু করার নেই, কারণ এই দেশে সরকার, প্রশাসন কোনোদিন হিন্দুদের পক্ষে নেই। ফলে মিথ্যা মামলা, ধর্মে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর ইত্যাদি হয়েই আসছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে।

হিন্দুদের নামে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে নবী, আল্লাহকে গালাগাল দেয় ঐ মুসলমানরাই। তারপর মারধর করে, থানায় দেয় হিন্দুদের। এরকম বহু ঘটনা ঘটেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মহানবীকে (সা.) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তি করায় এক হিন্দু যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশের তো যাচাইয়ের দরকার নেই।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের পারকুন্ডা গ্রাম থেকে বিধান রায় (২৫) নামের ওই যুবককে আটক করা হয়।  বিধান রায় ওই গ্রামের মলিন চন্দ্র রায়ের ছেলে।

বিধান রায় নাকি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর একটি পোস্ট দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

কেবল মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, হিন্দুদের লাগে না?

ঘটনার নিন্দা জানান লেখক তসলিমা নাসরিন।

তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, “ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বিধান রায় নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হিন্দুরা সাধারণত ইসলাম, কোরান হাদিস, নামাজ রোজা, নবী মহানবী নিয়ে কটূক্তি করে না। কারণ তারা জানে এর পরিণতি কী।

Oplus_131072

হিন্দুদের নামে ফেক আইডি তৈরি করে হিন্দুবিদ্বেষী মুসলমানেরা কটূক্তি করে, যেন হিন্দুরা কটূক্তি করেছে, এই অভিযোগ এনে হিন্দুদের হেনস্থা করা যায়, পিটিয়ে আধমরা করে ফেলে রাখা যায়, এমনকী মেরেও ফেলা যায়। এরকম বহুবার হয়েছে আগে”।

আরো একটি ঘটনারও নিন্দা জানান তিনি।

“মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মহানবীকে কটূক্তি করার কারণে এক যুবককে নির্যাতন করছে মহানবীর অন্ধ ভক্তরা। মহানবী সম্পর্কে কোনও সত্য কথাই ভক্তরা সহ্য করে না।

মহানবীর বাপ দাদা মুসলমান ছিলেন না, এই সত্য তারা সহ্য করে না, মহানবী তাঁর ৪০ বছর বয়সে মুসলমান হয়েছেন, ১১টি বিয়ে করেছেন, দাসি সহবাস করে স্ত্রীদের হাতে ধরা পড়েছিলেন, পালক পুত্রের স্ত্রীর দিকে নজর দিয়েছেন, পুত্রকে দিয়ে তালাক করিয়ে সেই স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন, ৬ বছরের শিশুকে বিয়ে করেছিলেন, শিশুর ৯ বছর হলে সহবাস করেছেন। এসব তো সত্যি।

এক রাত্তিরে তাঁর আদেশে কয়েকশো ইহুদিকে কচুকাটা করেছিল তাঁর সৈন্যরা। তিনি সেই ইহুদিদের স্ত্রী কন্যাদের গণিমতের মাল হিসেবে নিজের এবং সাহাবিদের মধ্যে ভাগ করে নেন। একজনকে শাদিও করেন।

মক্কায় গিয়ে আল-লাত, আল-উজ্জা আর মানাত নামের পেগান- দেবীদের তো উপাসনা করার আদেশও দিয়েছিলেন মুসলমানদের, তারপর শয়তানের গলার স্বরকে জিব্রাইলের গলার স্বর ভেবে ভুল করে আয়াত নাজিল করেছিলেন বলে তো স্যাটানিক ভার্সেস বলে ওই তিনটে ভার্স বাতিল করেছিলেন।

এসব সত্য ভক্তদের সহ্য হয় না। কারণ সত্যিকে সত্যি বলে মানলে তো ধর্ম থাকে না”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *