ঢাকা: হামে এত মৃত্যু হয়েছে কোনোদিন শুনেছেন? হাম কিন্তু কমবেশি সবার হয়। কিন্তু মৃত্যু? অথচ এই দেশটায় প্রতিদিন শিশু মারা যাচ্ছে। কারো কোনো গরজ নেই।

প্রতিদিন ৮/১০ জন শিশু মারা যাচ্ছে। কার অবহেলায়? একটা লোক ক্ষমতায় এসেছেন, বসেছেন আবার চলেও গিয়েছেন- অথচ তাঁর লোভ আর প্রতিহিংসার প্রভাবে এখনো ভুগছে মানুষ।

দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শিশুদের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামে টিকা সরবরাহে অবহেলার কারণে মৃত্যু বাড়ছে। এর দায় বিএনপি সরকারও এড়াতে পারে না।

তবে বিষয়টি আড়াল করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ অনেকে সাফাই দিচ্ছেন।

আবার আদালত ইউনূস ও তাঁর গংয়ের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত কার নির্দেশনায় চলছে?

হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও চিকিৎসার অব্যবস্থাপনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৩ মে) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এই সমাবেশ হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে পর্যাপ্ত সরকারি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং প্রতিটি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু করা।

চিকিৎসা অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তাঁরা জানিয়েছেন।

এর আগে শিক্ষার্থীরা পরিবহন মার্কেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ফের একই জায়গায় এসে শেষ হয়।

এ সময় তাঁরা দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ড হাতে ছিলো তাঁদের।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘দেশে গত তিন মাসে প্রায় সাড়ে ৪০০ শিশু মারা গেছে। তাঁদের অধিকাংশের বয়স ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে। হামের প্রসঙ্গ উঠলেই ক্ষমতাসীন বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকার দাবি করছে ৯৯ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ নেই, হামের জন্যও আলাদা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা জুলাইয়ের মতো আবারও আন্দোলন গড়ে তুলব।’

নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনও অবহেলিত। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে তৃণমূলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে দেশের কোনো মানুষকে অবহেলিত বা নিপীড়িত দেখতে চাই না।’

বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিটি শিশুমৃত্যুর জন্য শুধু টিকাই দায়ী না। সরকার এখনও কার্যকর টিকাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *