ঢাকা: শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন দ্রুত বিচার মামলার উদাহরণ।

তবে দেশবাসী বলছে, শুধু একটা ঘটনাই ঘটেনি, অন্যান্য ঘটনাগুলোরও বিচার হোক।

রামিসার ঘটনাটি ঘটে ১৯ মে। ঢাকার পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

৭ জুন তার রায় ঘোষণা হলো। সোহেন এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মামলা দায়ের থেকে রায় পর্যন্ত মাত্র ১৮-১৯ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং সহযোগী আসামি স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

এই মৃত্যুদণ্ডের রায় কি অবিলম্বে কার্যকর?

উত্তর হচ্ছে না! মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি কার্যকর হয় না।

রামিসার বাবা সেই আবেদনই করেছেন যেন রায় দ্রুত কার্যকর হয়।

সাধারণত পরবর্তী ধাপগুলো হলো:

১.ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যাবে।

২.হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনবে।

৩.প্রয়োজনে আপিল বিভাগে আপিল হবে।

৪.রিভিউ আবেদন হতে পারে।

৫.রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা যেতে পারে।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়। এর মধ্যে যদি কোনোভাবে আটকে যায় তাহলে আর কী!?

তবে লেখক তসলিমা নাসরিন মৃত্যুদণ্ড বিরোধী। তিনি মনে করেন, মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ধর্ষণ রোধ করা যাবে না।

লিখেছেন:

“চল্লিশ বছর আগে বলেছিলাম, ধর্ষককে ফাঁসি দিলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে না। তখন এই কথা বলার জন্য অনেকের ছি-ছি, গালাগাল আর নিন্দা শুনতে হয়েছে।

আজ সেই মানুষগুলোর অনেকেই এআইকে প্রশ্ন করে একই উত্তর পাচ্ছেন—ধর্ষককে ফাঁসি দিলেই ধর্ষণ বন্ধ হয় না। এআই-এর উত্তরকে শিরোধার্য মেনে এখন তারাই সেই কথাই পুনরাবৃত্তি করছেন।

এআই আজ যা শেখাচ্ছে, এআই আসার বহু আগে সেই কথাগুলো বলতে গিয়ে আমি গণধোলাই খেয়েছি”।

ধর্ষণ কেন বন্ধ হচ্ছে না?

তসলিমা লেখেন, “নারীবিদ্বেষী পুরুষতান্ত্রিক সমাজে, নারীবিরোধী ইসলামী আইনের প্রভাবে, এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ধর্ষণ সহজে বন্ধ হয় না”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *