চট্টগ্রাম: চারদিকে ধর্ষণ! যেন দেশজুড়ে ধর্ষণ উৎসব শুরু হয়েছে।

আজকের বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার চাইতে গেলেও পেতে হয় টিয়ারগ্যাস আর রাবার বুলেট।

প্রতিদিন যখন শিশু ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটতেই থাকে, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ হবে এটাই স্বাভাবিক।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

দেশে প্রতিদিন শিশুগুলো ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আইন নেই, বিচার নেই – সরকার থাকতেও অন্ধ। হয়তো আসামি গ্রেফতার হয়, তারপর তো দেখা যায় বিন্দাস আকাশের নিচে ঘুরে বেড়ায় আবার ধর্ষণ করে। এই তো চলছে…!

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনগণ।

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় নিতে গিয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল পুলিশ। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর উল্টো পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অভিযুক্তকে সরিয়ে নেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল চারটা থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির হোসেন (৩৬) চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার সময় শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।

রাত ৮টার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সূত্র জানিয়েছে, শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের হাতে আটকের পর মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *