ঢাকা: রিপন মিয়া তো সর্বত্র পরিচিত। তিনিই গ্রেপ্তার হলেন। আসলে সস্তা পরিচিতি পেয়ে একটু টাকা পয়সা করে এরা গাছের মগডালে উঠে বসে। আর তখনই তাদের প্রয়োজন হয় নারীর। ঘরে স্ত্রী সংসার থাকলেও কী না থাকলেও কী? এদের চরিত্র নিয়ে কথা বলাই অন্যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত নেত্রকোণার সালিশ বিতর্ক ও কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৪)।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের মহিষারন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই বিখ্যাত ব্যক্তিটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার সূত্রে একই এলাকার বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তিনি টার্গেট করে ফেলেন।

কনটেন্ট বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তিনি।

এবং গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জরুরি কথা বলার অজুহাতে কিশোরীকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন।

ঘটনার পর গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে স্থানীয় লোকজন রিপন মিয়াকে আটক করে।

একটা সালিশ বসে। সেখানে রিপন স্বীকার করেন নিজের দোষের কথা।

রিপন মিয়ার কাছ থেকে অপরাধের স্বীকারোক্তি নিয়ে মেয়ের বিয়ের খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা বসতভিটার জায়গা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে তাঁকে ৭ দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন স্থানীয় মাতব্বররা।

রিপন এটাই প্রথম নয়, তিনি আগেও বহু নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় শুরুতে থানায় না গিয়ে স্থানীয়দের কাছে বিচার চেয়েছিল।

এদিকে, ৪ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের। তিনি জানান, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে বেআইনিভাবে সালিশ বসিয়ে টাকা দিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

পরবর্তীতে ৪ আগস্ট রাতেই ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে নেত্রকোণা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের যেই হয়, রিপন পালিয়ে যান। এরপর তাকে ধরা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *