ঢাকা: বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জঙ্গী হামলা হতে পারে! এমন আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং গোয়েন্দা তথ্যে এই নিয়ে বেশ কিছু আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু সংসদ ভবন নয় মসজিদ, মন্দির, হাসপাতাল এবং শপিং মলের মতো জনবহুল জায়গাগুলোতে হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হুমকির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ডিআইজি স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সংগঠনটির সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।

বোমা বিস্ফোরণসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনার বিষয়েও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ করা জরুরি যে, গত প্রায় দশ দিনে, বিএএফ এবং অন্যান্য সামরিক গোয়েন্দা ইউনিটগুলো অন্তত তিনটি বিমানঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা অবকাঠামোতে অভিযান চালিয়েছে।

এ সময় টিটিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অন্তত দুজন স্কোয়াড্রন লিডার বলে পরিচিত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় বারো জন বিমানসেনাকে আটক করা হয়।

আরও অন্তত ১০-১২ জন বিমানসেনা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে কমপক্ষে চারজন পাকিস্তান, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড ও পর্তুগালের মতো গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে।

দেশে জঙ্গী ছেয়ে গেছে। পাকিস্তানের নাম শুনলে মানুষ যেমন ভ্রূ কুঁচকায়, তেমনি হয়েছে এখন বাংলাদেশের অবস্থা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তাবড় তাবড় বিতর্কিত এবং উগ্রবাদীদের জামিনে বা অন্য প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। যা নিয়ে এখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আবারো।

এছাড়াও ২০০১-২০০৬ মেয়াদের অভিজ্ঞতা (বিশেষ করে ২০০৫ সালের ৬৪ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা) সাধারণ মানুষের মনে এখনো তাজা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশ এবং রাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে জঙ্গিবাদ নির্মূলে চিরুনি অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ৮ আগস্ট ইউনূস সরকার গঠিত হওয়ার পরে প্রায় ১১ জন শীর্ষস্থানীয় দুষ্কৃতী (হয়তো সংখ্যাটা আরো বেশি) এবং ১৭৪ জন জঙ্গিকে জেল থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন জেল ভেঙে বের করে নেওয়া এরকম অনেক জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্য আছে।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছিল। কোনো প্রশ্রয় দেননি হাসিনা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতের পর রাত অভিযান চালিয়ে যে জঙ্গিদের গ্রেফতার করে জেলে ভরেছিলো, তাদের মুক্তি দেন ইউনূস।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *