কুমিল্লা: ১৩ বছরের ছেলে অপ্রতিম খুনের ঘটনাটি গোটা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

কথিত খুনি আনাস অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পোস্ট করেছিলো। সে লেখে যে দামি ডিভাইস সন্তানদের দেওয়া উচিত না। জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হতে পারে। মানে জিনিসটা এমন যে, “ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না!” এই প্রবাদের মত।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক তিনজন। এই তিনজনকেই ‘ঘাতক’ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

তারা— মো. তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

এবং অপ্রতিম যে আইফোনটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলো ছবি তুলবে বলে, সেটা তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। সে জঙ্গলের দিকে নিয়ে গিয়েছিলো অপ্রতিমকে।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিন, আনাস ও ফাহিমই ঘাতক।

আজ, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আটকের আগে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস।

সেখানে খুব সাবলীল কথা লেখে।

পোস্টে অপ্রতীমের সঙ্গে নিজের কথোপকথন তুলে ধরেন আনাস। তিনি লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।’

ঘাতক লিখছে এইসব কথা!

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘাতকরা নিজের সন্তানদের বন্ধু হয়ে যাচ্ছে, মিশছে, অথচ মা বাবার কোনো খোঁজ নেই। হাতে আইফোন, বাইক- ১৩ বছরের একটি বাচ্চা ছেলে বাইক নিয়ে ছবি পোস্ট করছে ফেসবুকে- এইসব অভিভাবকরা আজকাল দেখেও দেখে না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আমরা প্রতিটা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। কিন্তু বিচার তো পরে, হত্যাকাণ্ডগুলো হচ্ছে কেন?

সরকার, প্রশাসন এবং পাশাপাশি অভিভাবকরাও বাচ্চাদের নিরাপত্তা দিতে, সুশিক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

আনাসের মা বাবা দোষী যে তাদের সন্তান কম বয়সে বখে গেল। আবার অপ্রতিমের মা বাবা দোষী যে তার ছেলে বখাটেদের সাথে ঘনিষ্ট হলো। অবশ্যই দোষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার।

তারা থাকতে কিভাবে কিশোর গ্যাং হয়ে উঠে তরুণরা? ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের ফেসবুকে ক্যাপসন হলো রেড ভাইপার! আবার ছবি হলো অ্যাডাল্ট যুবকের পোজে বাইকে।

সবার দোষে জীবন গেল অপ্রতিমের।অপ্রতিমের দোষ নেই। দোষ বড়দের, সিস্টেমের, সমাজ ব্যবস্থার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *