ঢাকা: সাকিব আল হাসান বরাবর নিজের লক্ষ্যে স্থির। আঘাত, সমালোচনা তাঁকে সেভাবে টলাতে পারেনা। বরং বিভিন্ন সময় সাহসী বক্তব্যগুলো দেন তিনি অকপটে।
বিসিবি সভাপতির পদে একের পর এক পরিবর্তন এবং দেশের ক্রিকেটের যে অস্থির অবস্থা তা নিয়ে সাকিবের কোনো আগ্রহ নেই। নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্রিকেট বোর্ডে কে এল বা কে গেল, তা নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই।
গত ৭ এপ্রিল বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে সাকিব বলেন, “এসব নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কে আসল, কে গেল কিংবা এটা হলে কী হতো এসব নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই।”
এইসবে যে ক্রিকেটাররা ভুক্তভোগী হন, তা অবশ্য তিনি বলেন।
তিনি দ্রুত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর তাগিদ দিয়ে বলেন, এই ঘনঘন রদবদলে কেবল ক্রিকেটাররাই ভুক্তভোগী হচ্ছেন।
সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ বা আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা বোর্ড প্রধান হিসেবে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় হতাশ কি না—এমন প্রশ্নে সাকিব সরাসরি তৎকালীন সরকারকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “অবশ্যই খারাপ লাগার বিষয়। তবে আমার মনে হয়, তাদের ব্যর্থতার চেয়ে তখন যারা সরকারে ছিল, তাদের দায়টাই বেশি। তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বুলবুল ও ফারুক ভাই ব্যর্থ হয়েছেন।”
সাকিবের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই সাবেক ক্রিকেটাররা বোর্ডে সফল হতে পারেননি।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব পরিষ্কার বলেন, ‘রাজনীতি তো আমৃত্যু করা যায়, সেখানে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। আমি এখন সেটিই ঠিক করার চেষ্টা করছি। যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নেই, সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার।’
রাজনীতিকে মানুষের সেবা করার বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে, সব সময় থাকবে।’
সাকিব বলেন, ‘পরিস্থিতি সব সময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়।’
