ঢাকা: নাটক, ছলনা না জানলে কী শিবির করা যায়? শিবির মানেই তো শয়তানি, রাজাকারি, দেশ ধ্বংস, ধর্ষণ!
এখন জিসানের মূল নাটক কী ছিলো সেটা তো সারা দেশ জেনে গিয়েছে। এখন শিবির থেকে তাকে বহিষ্কার করে শিবির কী প্রমাণ করতে চাইছে? তারা খুব ভালো? এগুলো সব আই ওয়াশ!
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গুমের নাটক তিনি ভালোই করেছেন। শেষপর্যন্ত ধরা খেলেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তিনি।
এই ঘটনায় ঐ তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে বিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তারপরেই গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
আত্মগোপনে যাওয়ার পর জিসান তাঁর চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান। এত চালাক শিবিরের শাবকরাই হয়।
নিখোঁজের অনুসন্ধানের সময়েই লাকসাম এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে ধরা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।
