চট্টগ্রাম: দেশটা লাশের পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে দেশে।তা নাহলে দেশের আনাচে কানাচে থেকে এইভাবে লাশের খবর আসে? এখন কয়জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় বলতে পারেন? অধিকাংশ খুন, দুর্ঘটনা, তবে মৃত্যু! এটাই কি লেখা ছিলো বাংলাদেশের কপালে?
সরকার গঠনের পরবর্তী সময়টাতে আমরা তো প্রতিদিন হত্যার খবর পাচ্ছি। দেশে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় মারা গিয়েছে বহু মানুষ।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, হামলা, আধিপত্য বিস্তার, ব্যক্তিগত বিরোধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা দায়ের ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে করেনি। উল্টো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও মারা পড়ছে দুর্বৃত্তদের হাতে।
চুয়াডাঙ্গা, পটুয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ফেনী, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় সংঘর্ষ, সামাজিক বিরোধ, সালিশ বৈঠক, ইজারা ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে নানান ঘটনা ঘটছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রামে মুণ্ডহীন মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে কয়দিন পর পরেই।
রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানির বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে।
এবার ফের চট্টগ্রামে খুলি বিহীন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নগরের খুলশী এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) ক্যাম্পাসের সামনে থেকে খুলিবিহীন এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, ইউএসটিসি ক্যাম্পাসের হাসপাতালের নিচতলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহটির এমন হাল ছিলো যে তাকে শনাক্ত করাও যায়নি।
মরদেহটির মাথার অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং মুখমণ্ডল বিকৃত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। কীভাবে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি ওপর থেকে পড়ে গেছেন নাকি অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
